জ্বালানি বাজারে চাপ কমাতে বাড়ছে সরবরাহ, নতুন দামেও আশার আলো
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) দেশের জ্বালানি বাজারে ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় রবিবার থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সরবরাহ বৃদ্ধির পরিমাণ ও নতুন মূল্য নির্ধারণ
বিপিসির এক সূত্র জানিয়েছে, ডিজেল, অকটেন এবং পেট্রোলের অতিরিক্ত বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অকটেন সরবরাহ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, অন্যদিকে পেট্রোল ও ডিজেলের বরাদ্দ প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে।
এদিকে, মধ্যরাত থেকে সংশোধিত জ্বালানি মূল্য কার্যকর হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকায় প্রতি লিটারে জ্বালানির দাম ১৯ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পেট্রোল পাম্প মালিক ও পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই মূল্য সমন্বয় সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য আনতে সহায়ক হবে।
চাহিদা বৃদ্ধি ও বাজার সংকটের কারণ
এনার্জি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় জ্বালানির চাহিদা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। যদিও গত বছরের গড় অনুমানের চেয়ে সরবরাহও বেশি ছিল, তবুও বাজারে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ এখন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পাম্প ভিত্তিক সংশোধিত বরাদ্দ নির্ধারণের কাজ করছে, যাতে বিতরণ ব্যবস্থাপনা উন্নত হয়। দেশের মোট জ্বালানি খরচের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেলের। ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি, অকটেন ও পেট্রোলের বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি ও আতঙ্কজনক কেনাকাটার কারণে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায়, সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
পাম্প মালিকদের প্রত্যাশা ও বক্তব্য
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর বাজার স্থিতিশীল হবে। তারা বলেছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে অতিরিক্ত মজুত করার প্রবণতা কমবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলায় আরও শৃঙ্খলা আসবে।
সমিতির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, "এই মূল্য সমন্বয় বাজারে অপ্রয়োজনীয় মজুত করার প্রবণতা কমাবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করবে। একই সাথে, সরবরাহ বৃদ্ধি পাম্প পর্যায়ের চাপ কমাবে।"
পাম্প মালিকরা আরও বলেছেন, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা ভবিষ্যতে একই ধরনের ব্যাঘাত প্রতিরোধে সহায়ক হবে।



