জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল চালকদের আয় কমেছে: শফিকুর রহমানের অভিযোগ
আজ শনিবার সকালে ঢাকার আসাদ গেট এলাকায় একটি তেলের পাম্প পরিদর্শন করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
মোটরসাইকেল চালকদের আয় হ্রাসের চিত্র
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, যাঁরা মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁদের আয় আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি বলেন, 'যারা বাইক চালিয়ে নিজের সংসারটা কোনোরকম নির্বাহ করে, আমি জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আগে কত? বলে যে আগে দেড়-দুই হাজার টাকা রুজি করতাম। এখন কত? কয় না, এখন তো ৫০০-৬০০।' এই অবস্থা দেশে জনদুর্ভোগের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
তেলের বাজারে অস্থিরতা ও চাঁদাবাজির প্রভাব
জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং চাঁদাবাজির রেট বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'দ্রব্যের মূল্য বেড়ে গেছে দুটি কারণে। একটা হলো তেলের বাজারে অস্থিরতা, সংকট। এ জন্য পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। আরেকটা হলো, চাঁদাবাজির রেটও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই দুইটার ভার এসে সাধারণ জনগণের ঘাড়ে পড়তেছে।'
সরকারের তথ্য গোপন করার অভিযোগ
জামায়াত আমির সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকার দাবি করছে যে আগের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন তেল বেশি বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু পাম্পে কথা বলে জানা গেছে এটি সত্য নয়। শফিকুর রহমান জানান, পেট্রলপাম্পে ভোর পাঁচটায় লাইনে দাঁড়ানো গাড়ির পাশাপাশি আগের দিন রাত ৯টায় আসা গাড়িও তেল পাচ্ছে, যা সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার বাস্তবতা
পরিদর্শনকালে শফিকুর রহমান প্রাইভেট কারের চালক এবং মোটরসাইকেলচালকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা জানান, প্রাইভেট কারের চালকেরা সারা দিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকার তেল পান, আর মোটরসাইকেলচালকেরা সর্বোচ্চ ৩০০-৫০০ টাকার তেল পান। মানুষ বাধ্য হয়ে ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এত কম তেল সংগ্রহ করছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
সত্য কথা বলার আহ্বান
শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, 'এখানে লুকোচুরির কী আছে! আমরা খোলামেলা সত্য কথাটা বলি। সবাই মিলে তার সমাধানের পথ খুঁজে বের করব।' তিনি সরকারের সমালোচনা করে যোগ করেন, 'আমরা একদিকে জনগণের ন্যায্য চাহিদা পূরণ করতে পারছি না, অন্যদিকে জনগণকে আমরা মিথ্যুক বানিয়ে ফেলতেছি। এটা আসলে জাতীয় লজ্জা।'
মাঠের আন্দোলনের ইঙ্গিত
তেলের জন্য লাইনে থাকা অনেক মোটরসাইকেলচালক শফিকুর রহমানকে জ্বালানি তেলের সংকটের বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে এবং প্রয়োজনে মাঠের আন্দোলনে নামতে অনুরোধ করেন। জামায়াত আমির তাদের প্রত্যুত্তরে বলেন, 'রাস্তায়ই আছি। আমাদের সঙ্গে আপনাদেরও নামতে হবে।' এই মন্তব্য রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
পরিদর্শনকালে শফিকুর রহমানের সঙ্গে জামায়াতের ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনা দেশের জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।



