জ্বালানি সংকটে রাইডশেয়ার চালকদের দুর্ভোগ: তেলের জন্য সারাদিন অপেক্ষা, আয় কমে ঋণের দুর্বিপাক
জ্বালানি সংকটে রাইডশেয়ার চালকদের দুর্ভোগ, আয় কমে ঋণ

জ্বালানি সংকটে রাইডশেয়ার চালকদের জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগ

রাজধানী ঢাকার পরিবাগ এলাকার মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়ার অপেক্ষায় বসে আছেন মোটরসাইকেল চালক তরিকুল ইসলাম। শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাঁর সঙ্গে কথা হয়, যখন তিনি সকাল সাতটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শতাধিক মোটরসাইকেলের সামনে অপেক্ষা করতে করতে তিনি বললেন, ‘আজকে হয়তো আমার বাসায় বাজার হবে না। বাজার করব কী দিয়ে, সারা দিন তো তেলের জন্য বসে আছি। বাবা-মায়ের ওষুধের টাকা হবে না, আবার ওষুধের টাকার চিন্তা করলে বাজার হবে না।’ এই অবস্থা শুধু তরিকুলের নয়, রাজধানীর অসংখ্য রাইডশেয়ার চালকের একই দশা।

আয় কমে হিমশিম খাচ্ছেন চালকরা

তরিকুল ইসলাম জানান, নয় বছর ধরে তিনি ঢাকায় রাইডশেয়ার চালাচ্ছেন। আগে দিনে ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা আয় হতো, কিন্তু এখন তেলের সংকটে সেটা অনেক কমে গেছে। তেল নিতেই ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, আর এই সময়ে পানি ও খাবারে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা খরচ হয়। পরিবারের ছয় সদস্যের ভরণপোষণ চালাতে গিয়ে তিনি ইতিমধ্যে ১৫,০০০ টাকার ঋণ করেছেন। ‘দোকানেও কিছু বাকি করেছি। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন লস যায় তেল নিতে গিয়ে,’ বললেন তিনি।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপটে ভাড়া কমার অভিযোগ

অন্য এক চালক মো. মাসুম তিন বছর ধরে রাইডশেয়ার করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো কোনো লাইসেন্স বা ট্যাক্স ছাড়াই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, যা চুরি করা বিদ্যুতে চার্জ হয়। ফলে তাদের খরচ কম এবং ভাড়া অর্ধেকে নিয়ে যাচ্ছে। ‘আগে ৭-৮ ঘণ্টায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা ভাড়া পেতাম, এখন ১২-১৩ ঘণ্টা চালিয়েও সেটা পাই না। ৩০০ টাকার ভাড়া তারা ১৫০ টাকাতেই চলে যায়,’ বললেন মাসুম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঋণ করে কিস্তি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা

চাকরি ছেড়ে দুই বছর আগে কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনে রাইডশেয়ার শুরু করেন বিল্লাল হোসেন। তেলের সংকটে ভাড়া কমে যাওয়ায় পরিবারের খরচ ও কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি ঋণ করে কিস্তি শোধ করছেন। ‘বসে বসেই দিন পার। ভাড়া মারব আর কখন? গতকাল ৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাইনি, আজ আবার সকাল ৮টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি,’ বললেন বিল্লাল।

ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের চিত্র

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিনই তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। শনিবার বেলা ১১টায় মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে ৪০৯টি মোটরসাইকেল ও ২৭৯টি প্রাইভেট কার অপেক্ষা করছিল। বিকেল চারটায় পরিবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে লাইন দাঁড়ানো ছিল ৭৭০টি মোটরসাইকেল ও ২৯৩টি প্রাইভেট কার। এই সংকট চালকদের দৈনন্দিন জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়ে ঋণের দুর্বিপাকে জড়িয়ে পড়ছেন।