জ্বালানি সংকট নেই, এপ্রিল-মে মাসের পূর্ণ সক্ষমতা নিশ্চিত: প্রতিমন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, দেশে এপ্রিল ও মে মাসের জন্য পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা রয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানিকৃত সকল জ্বালানি সফলভাবে এসেছে। মার্চ ও এপ্রিলে কিছুটা বিঘ্নিত হলেও, এপ্রিল ও মে মাসের জন্য সম্পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা বজায় আছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
জ্বালানি মজুত ও চাহিদা ব্যবস্থাপনা
বর্তমানে জুন মাসের চাহিদা মাথায় রেখে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমানে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে। সরকার ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে কাজ করছে। পাশাপাশি, বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহও বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য উদ্যোগ
ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিকল্প উৎসে অপরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জ্বালানির বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি ও শিল্প খাতকে প্রাধান্য দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পূর্ববর্তী ঘোষণা ও বর্তমান পরিস্থিতি
এর আগে, গত ১৫ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে অকটেন এবং পেট্রোলের মজুত থাকায় আগামী দুই মাসেও কোনো সমস্যা হবে না। দেশে বর্তমানে ডিজেল রয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৫ টন, অকটেন রয়েছে ৩১ হাজার ৮২১ টন, পেট্রোল রয়েছে ১৮ হাজার ২১ টন এবং ফার্নেস ওয়েল রয়েছে ৭৭ হাজার ৫৪৬ টন। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে, যার ফলে মানুষ ফিলিং স্টেশনে ভিড় করতে শুরু করে। এই ভিড় প্রতিদিন বাড়ছে বলে পেট্রলপাম্পের মালিকেরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রলের জন্য সারা দেশে তেলের লাইন দেখা যাচ্ছে।
সরকারের এই উদ্যোগগুলি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। প্রতিমন্ত্রীর এই ঘোষণা দেশবাসীর জন্য আশ্বস্তকর বার্তা বয়ে এনেছে, বিশেষ করে কৃষি ও শিল্প খাতের জন্য যা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।



