আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং কমবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমিয়ে আনা হবে। সোমবার গুলশানের একটি হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, 'আমার কপাল খারাপ। দায়িত্ব নেওয়ার পরই লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সরকারি খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পড়ে আছে। তাই বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো তেল-কয়লা কিনতে পারছে না। তবে আগামী সপ্তাহে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে। লোডশেডিং ৮০০-৯০০ মেগাওয়াটে কমিয়ে আনা হবে।'
একইসঙ্গে দেশের পতিত সব সরকারি জমির তালিকা করার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, 'সিরাজগঞ্জে ৯০০ একর জমি পড়ে আছে। এসব জমি আমরা বেসরকারি খাতে দেব। কেননা আগামী পাঁচ বছরে আমরা ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাই।'
মন্ত্রী আরও বলেন, এখন একমাত্র সমাধান সৌরবিদ্যুৎ। তাই সব মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত জমির তালিকা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। রেলওয়ে সবচেয়ে বড় জমিদার, তাদের অনেক জমি পড়ে আছে, এসব বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সভায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয় উঠে আসে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, 'যুদ্ধ শেষ হয়ে কবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা কেউ বলতে পারবে না। তাই নবায়নযোগ্য খাতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।'
বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও জ্বালানিসংকট, বকেয়া বিল ও কারিগরি ত্রুটির কারণে মাত্র ১২-১৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদিত হচ্ছে। চাহিদা ১৪-১৫ হাজার মেগাওয়াট হওয়ায় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।



