কাপ্তাইয়ে পানিস্বল্পতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস, মাত্র ৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে
কাপ্তাইয়ে পানিস্বল্পতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস

কাপ্তাইয়ে পানিস্বল্পতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে মারাত্মক সংকট

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও হ্রাস পেয়েছে। হ্রদে পানিস্বল্পতার কারণে বর্তমানে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে শুধু একটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর এই একটি ইউনিট থেকে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এই কেন্দ্রে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ২শ ৪২ মেগাওয়াট।

ব্যবস্থাপক প্রকৌশলীর বক্তব্য

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দিন দিন কমতে থাকে। আর পানির ওপর নির্ভরশীল এই কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শুধু ২নং ইউনিট থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।’

হ্রদের পানির স্তরের অবস্থা

বর্তমানে রুলকার্ভ অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদে ৮৩.৮০ এমএসএল (মিনস সি লেভেল) পানি থাকার কথা থাকলেও বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে পানির লেভেল ছিল ৭৭.৪৭ এমএসএল। এটি নির্দিষ্ট স্তরের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কন্ট্রোল রুমের তথ্য

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, বিগত সপ্তাহগুলোতে কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো। কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত কমতে থাকায় মঙ্গলবার থেকে শুধু একটি করে ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, যতদিন বৃষ্টি হবে না, ততদিন পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হবে না। শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর কমতে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও সীমিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে ভবিষ্যতে এমন সংকট আরও বাড়তে পারে। তাই বিকল্প বিদ্যুৎ উৎসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।