ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে গত চার বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভোলা সদরের তুলাতুলি থেকে তিনটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে এই চরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। কিন্তু মেঘনা নদীতে চলাচলকারী বড় নৌযানের অপরিকল্পিত নোঙরের কারণে ছয় মাসের মধ্যেই তিনটি কেবলই ছিঁড়ে যায় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
চার বছরেও সমাধান নেই
এরপর চার বছর পার হলেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে নজরদারির অভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনের তার, ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর চরের শত শত গ্রাহক টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিনেছিলেন, যা এখন বিদ্যুতের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ আনতে গ্রাহকপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু এখন বিদ্যুৎ না পেয়ে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি
উপজেলার মদনপুর চরের বাসিন্দা ভুট্টু মাঝি জানান, টানা চার বছর ধরে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। নিম্নমানের সংযোগের কারণে বাসাবাড়ির ফ্যান, লাইট, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ব্যবসায়ীদের ক্ষতি
উপজেলার মদনপুর চরের ব্যবসায়ী মো. নাছির জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তার দোকানের ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যাল পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্থানীয় সরকারের উদ্যোগ
মদনপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হেলাল জানান, এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার গিয়েও কোনো ফলাফল পাননি। তিনি বিষয়টি ভোলা জেলা প্রশাসকের সহায়তা কামনা করেন।
পল্লী বিদ্যুতের উদাসীনতা
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শাহ মোহাম্মদ রাজ্জাক রহমান জানান, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। উল্লেখ্য, ভোলার দুই চরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পে ব্যয় হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা।



