বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট চালু, বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট চালু

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি সাড়ে ছয় মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকাল ৫টা ৪৬ মিনিটে ইউনিটটি চালু করা হয়। বর্তমানে এই ইউনিট থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে উৎপাদন বেড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে তৃতীয় ইউনিট থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রথম ইউনিট থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৫৫ মেগাওয়াট।

তিনি আরও জানান, খুব দ্রুত দুই ইউনিট মিলিয়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কয়লার প্রয়োজনীয়তা

প্রতিদিন দুটি ইউনিট চালু রাখতে প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন কয়লা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিটটি মেরামতের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সেটিও দ্রুত চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী অবস্থা

এর আগে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তৃতীয় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। এতদিন শুধুমাত্র প্রথম ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল।

২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লার ওপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে দুটি ১২৫ মেগাওয়াট ইউনিট থাকলেও ২০১৭ সালে আরও একটি ২৭৫ মেগাওয়াট ইউনিট যুক্ত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিটসমূহ

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিট রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট। আর তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। আর ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ ছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে একটি ইউনিটের ওপর নির্ভর করেই এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল।

দ্বিতীয় ইউনিট চালুর উদ্যোগ

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করতে চীনা কোম্পানির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের আলোচনা চলছে। এই ইউনিট চালু করার জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। খুব দ্রুতই দ্বিতীয় ইউনিট চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত আসবে। এই ইউনিট চালু করতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ মিলিয়ন ডলার। চীনা কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যার কম বা বেশি হতে পারে।