জিডিপি প্রবৃদ্ধি হোঁচট খেল: দ্বিতীয় প্রান্তিকে নেমে এলো ৩ শতাংশে
জিডিপি প্রবৃদ্ধি হোঁচট খেল, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ শতাংশ

জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা: দ্বিতীয় প্রান্তিকে নেমে এলো ৩ শতাংশে

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হোঁচট খেয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, কিন্তু পরের তিন মাসে তা ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) চলতি অর্থবছরের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকের জিডিপির এই তথ্য প্রকাশ করেছে, যা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিবিএসের তথ্যে কী উঠে এসেছে?

বিবিএসের তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। এর আগের প্রান্তিকে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এই পতন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে একটি স্পষ্ট মন্থরতা নির্দেশ করে, যা বিভিন্ন খাতের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব ও ভবিষ্যত শঙ্কা

তবে শঙ্কার বিষয় হলো, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানিসংকটে দেশে দেশে জ্বালানি তেল ব্যবহারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা ছোট–বড় দেশগুলোর অর্থনীতি শ্লথ করতে পারে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়; দেশের পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য বিশাল সারি দেখা যাচ্ছে, যা উৎপাদন ও পরিবহন খাতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে আরও প্রভাবিত করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জিডিপি প্রবৃদ্ধি কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলো একটি দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক আকার বা উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় কত শতাংশ বৃদ্ধি পেল, তার পরিমাপ। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য বা উন্নতির অন্যতম প্রধান সূচক। একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্যই জিডিপির আকার। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লে সাধারণত মানুষের আয় বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনীতি সচল থাকে, কিন্তু অনেক সময় প্রবৃদ্ধি বাড়লেও মানুষের জীবনযাত্রার মান বা প্রকৃত আয় সেই হারে বাড়ে না। এ জন্য উন্নয়নের সুফল পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী তথা গরিব মানুষকে পেতে হবে, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

কোন খাতে কত প্রবৃদ্ধি হয়েছে?

সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বিবিএস কৃষি, শিল্প ও সেবা—এই তিন খাতের জিডিপির আলাদা তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, গত অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে। এই খাতের প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা অর্থনৈতিক মন্থরতার একটি প্রধান কারণ। এরপর কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা মোটামুটি স্থিতিশীল। আর সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা শিল্প খাতের তুলনায় ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করেই মূলত সার্বিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, কিন্তু এর দুর্বলতা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে টেনে নামিয়েছে।

এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে।