বৈদেশিক ঋণভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বড় ধীরগতি
বৈদেশিক ঋণভিত্তিক উন্নয়নে বড় ধীরগতি

দেশের বৈদেশিক ঋণভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বড় ধীরগতি দেখা দিয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে ঋণ ছাড় এবং নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে এর বিপরীতে আগের নেওয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপ আরও বেড়েছে।

ঋণ ছাড়ে বড় ঘাটতি

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) রবিবার (২৪ মে) প্রকাশিত最新 প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭.৮৬৮ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু অর্থবছরের ১০ মাস শেষে উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে মাত্র ৪.২৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড় হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৫৩.৮৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ ছাড় হয়েছিল ৫.১২৮ বিলিয়ন ডলার। সে অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ছাড় প্রায় ১৮ শতাংশ কমেছে।

ধীরগতির কারণ

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, জটিল ক্রয় প্রক্রিয়া, উন্নয়ন প্রকল্পে বিলম্ব এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বৈদেশিক ঋণ ছাড়ে এমন স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়েও চাপ পড়তে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতিতেও ধীরগতি

অন্যদিকে, নতুন বৈদেশিক ঋণ প্রতিশ্রুতি সংগ্রহের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ধীরগতি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের জন্য ৬.৭১৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২.৮০৭ বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪১.৮৪ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি ছিল ৪.২৫৯ বিলিয়ন ডলার। সে অনুযায়ী, এক বছরে প্রতিশ্রুতি প্রায় ৩৪ শতাংশ কমেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থনীতিতে প্রভাব

অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে নতুন ঋণ প্রতিশ্রুতি হ্রাস ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অবকাঠামো, জ্বালানি ও পরিবহন খাতে বড় প্রকল্পের অর্থায়নে চাপ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে

ঋণ ছাড় ও নতুন প্রতিশ্রুতি কমলেও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ৩.৫০৭ বিলিয়ন ডলার কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করেছে। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৮০২ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৮.৪১ শতাংশ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় পরিশোধের চাপও দ্রুত বাড়ছে। ফলে নতুন ঋণের প্রবাহ কমলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।