রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাজেট বিষয়ক মতবিনিময় সভায় ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বর্তমানে এই সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
প্রস্তাবিত কর সংস্কার
রবিবার (২৪ মে) অনুষ্ঠিত ওই সভায় দলটির পক্ষ থেকে করপোরেট করহার গড়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি তামাক ও মাদকের ওপর বর্তমান করহার বহাল রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জিডিপির অনুপাতে কর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই বলেও মত দেয় দলটি।
সভায় উপস্থিতি ও মূল প্রবন্ধ
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভাপতিত্ব করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।
প্রবন্ধে বলা হয়, জামায়াত বড় বাজেটের পরিবর্তে মানসম্মত ব্যয় ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক সুশাসন ও 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন ছাড়া অর্থের অপচয়, দুর্নীতি ও অদক্ষতা দূর করা সম্ভব নয় বলে মত দেওয়া হয়।
বক্তাদের মতামত
সভায় বক্তারা বলেন, কর আহরণ বাড়ালে কর্মসংস্থান কমে যায় এবং ব্যবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধি পায়। তাই কর-জিডিপি অনুপাত না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অগ্রিম আয়করের (এডভান্স ট্যাক্স) অবসান দাবি করা হয়।
এসময় সরকারের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ এবং চার কোটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সমালোচনা করেন বক্তারা। এ কে এম ওয়ারেসুল করিম বলেন, 'এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।'
প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, 'বাজেটকে অতীতে শোষণ ও লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তা যথাযথভাবে কাজে লাগেনি।' তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, 'বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ শিক্ষাখাতে বিশ্বের সর্বনিম্ন বরাদ্দপ্রাপ্ত দেশগুলোর একটি। এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।'
সভাপতির বক্তব্য
সভাপতির বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, 'চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য কিনা— তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।' তিনি সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
সভায় বক্তারা সামগ্রিকভাবে একটি দক্ষ, সুশাসনভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী বাজেট কাঠামোর দাবি জানান।



