প্রথম আলো আয়োজিত 'সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)-এর প্রফেসরিয়াল ফেলো সেলিম জাহান। তিনি বলেন, বাজেটের ভারসাম্য এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে যাতে জীবনের ভারসাম্য নষ্ট না হয়। ভর্তুকি কমালে জীবনযাত্রার মান কমে যাবে। একদিকে সংস্কার করতে হবে, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদে বিনিয়োগ করতে হবে। কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে।
সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য
সেলিম জাহান বলেন, 'আমাদের এমন সংস্কার করতে হবে যা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। কর আদায় বাড়াতে হবে, ব্যয় কমাতে হবে। সংস্কারের পাশাপাশি জনপ্রত্যাশা সামাল দিতে হবে। স্থিতিশীলতা ও গতিময়তার মধ্যে ভারসাম্য আনতে হবে। মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি কাজের সুযোগ যেন বাড়ে, সেটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।'
বাজেটকে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা হিসেবে দেখা
তিনি আরও বলেন, 'আমি বাজেটকে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা হিসেবে দেখতে চাই। বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এর উন্নয়নদর্শন থাকা দরকার। এখনকার বাজেটে মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।' বাজেটে জনপ্রত্যাশা নয়, জনগণের প্রয়োজন মেটাতে হবে বলে মত দেন সেলিম জাহান। তিনি বলেন, অনেক উদ্যোগ সবার ভালো লাগবে না, তবে সে জন্য জনগণকে আগে থেকে প্রস্তুত করতে হবে। দেশে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ করতে হবে। মানুষকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহজে যুক্ত করতে হবে। নারীর উন্নয়নের বিষয়গুলো বাজেট আলোচনায় থাকা দরকার।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সঞ্চালনা করছেন প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন। আরও উপস্থিত আছেন পিপিআরসির চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব উর রহমান, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, টিকে গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা ও বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।



