ঈদুল আজহা উপলক্ষে পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বুধবার চরমে পৌঁছেছে। তবে কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় তেমন কোনো বড় যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
যানবাহনের সংখ্যা ও টোল আদায়
ঈদকে সামনে রেখে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লোকজন বড় সংখ্যায় ঘরে ফিরতে থাকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে মোট ৮৯ হাজার ৬১০টি যানবাহন পার হয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় ১০ কোটি টাকার টোল আদায় হয়েছে।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাইয়াদ জানান, ২৬ মে একদিনে ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ৩০ হাজার ৯৪টি যানবাহন পার হয়ে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা টোল আদায় হয়েছে। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ৫০৮টি যানবাহন পার হয়ে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা টোল সংগ্রহ হয়েছে। ফলে ওই দিন মোট টোল আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
এর আগের দিন ২৫ মে মোট ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন সেতু পার হয়। এতে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫টি যানবাহন পার হয়ে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন পার হয়ে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা টোল আদায় হয়। ওই দিন মোট টোল সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৮১ লাখ টাকায়।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও বিশেষ পদক্ষেপ
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ সারাদিন এক্সপ্রেসওয়ে ও সেতুতে লক্ষণীয় ছিল। তবে অতিরিক্ত টোল লেন, আলাদা মোটরসাইকেল লেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় নজরদারির কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে টোল প্লাজার সক্ষমতা বাড়ানো, অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা অন্তর্ভুক্ত। হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে বলে তারা জানান।
যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া
ঘরমুখো যাত্রীরা বলেছেন, এ বছরের ঈদযাত্রা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি আরামদায়ক ছিল, বিশেষ করে পদ্মা সেতু বা এক্সপ্রেসওয়েতে দীর্ঘ যানজট না থাকায়।



