ডি-চেকের পরও বিমানে ৪৩টি ত্রুটি: হজ ফ্লাইটে উদ্বেগ
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান এবং মোটা অঙ্কের ব্যয় সত্ত্বেও বিমানের ফিটনেস সংকট কাটছে না। ইতালিতে ডি-চেক সম্পন্ন করে আসা একটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজে নতুন করে ৪৩টি যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে, যা নজিরবিহীন বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ফ্লাইট বিলম্ব ও মেরামতের ধকল
বুধবার রাতে ঢাকায় পৌঁছানো এই উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় মাস্কাট যাওয়ার কথা থাকলেও ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রি-ফ্লাইট চেকিংয়ে একের পর এক ত্রুটি সামনে আসায় ফ্লাইটটি সাড়ে চার ঘণ্টা বিলম্বে নিজস্ব প্রকৌশলীদের মাধ্যমে মেরামত সম্পন্ন করে ঢাকা ত্যাগ করে। বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানান, ডি-চেকের পর কিছু নিয়মিত কারিগরি কাজ বাকি ছিল, যা সম্পন্ন করে ফ্লাইটটি দুপুর সাড়ে ১২টায় মাস্কাটের উদ্দেশে রওনা দেয়।
ইতালিতে ৬ মাস: সময় বাড়লেও ফিটনেস ফেরেনি
এই উড়োজাহাজটিকে ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর ডি-চেকের জন্য ইতালিতে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে সাধারণত ৪৫ থেকে ৬৭ দিন সময় লাগার কথা। কিন্তু দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে দীর্ঘ ৬ মাস পর এটি ঢাকায় ফিরে। বিমানের প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর উড়োজাহাজটির বিভিন্ন জায়গায় ৪৩টি ত্রুটি রয়ে গেছে, যা ডি-চেক পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য অস্বাভাবিক।
হজ ফ্লাইটে শঙ্কা ও রহস্য
এই ফ্লাইটটিকে আসন্ন হজের যাত্রী পরিবহনের জন্যও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “৬৭ দিনের কাজ করতে ৬ মাস লাগলো, তাও পুরোপুরি ফিট হলো না—ব্যাপারটি রহস্যজনক।” এখন রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থায়, যদিও বর্তমানে ফ্লাইটটি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।



