কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় হাট থেকে ভাড়া করে আনা ধান কাটার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৩ মে) সকালে উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত শ্রমিকরা।
নিহতের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
নিহত সমীরণ বেগম (৬৮) ওই গ্রামের আবদুল বাতেন মোল্লার স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধান কাটার জন্য বাতেন মোল্লা গত ২৭ এপ্রিল বিকালে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার শ্রমিকের হাট থেকে চারজন শ্রমিক ভাড়া করেন। শনিবার একজন শ্রমিক পরিবারের একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর বাকিরা রাতে আরও একজন শ্রমিক নিয়ে আসে। শ্রমিকরা বসতঘরের মাঝের কক্ষে থাকতেন। পাশের এক কক্ষে সমীরণ বেগম এবং অন্য কক্ষে তার স্বামী ঘুমাতেন।
নিহতের ছেলের বক্তব্য
নিহতের ছেলে বশির মোল্লা জানান, তার মা প্রতিদিন ভোরে উঠে ফজরের নামাজ আদায় করতেন। রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা দেখেন শ্রমিকরা নেই। পাশের কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সমীরণ বেগমের হাত-পা বাঁধা এবং গলায় পর্দার কাপড় পেঁচানো। পরে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এসে জড়ো হন। তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের নাম-পরিচয় তাদের জানা ছিল না। তবে তারা চাঁদপুর ও ঢাকা জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছিল।
সাবেক চেয়ারম্যানের মন্তব্য
সুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার বলেন, বাতেন মোল্লা এলাকায় সচ্ছল ব্যক্তি। প্রতি বছর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে শ্রমিক এনে কাজ করান। এবার শ্রমিক আনার পর তারা বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর নগদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে আসি এবং পুলিশকে অবহিত করি।
পুলিশের তদন্ত
চান্দিনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্রমিকরাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, বাইরে থেকে শ্রমিক আনার ক্ষেত্রে তাদের পরিচয়পত্র ও ছবি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।



