পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় একটি এনজিওর কর্মীরা এক গর্ভবতী নারীকে কিস্তির টাকা দিতে না পারায় মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গণ্ডামারী গ্রামের ওই নারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ
ভুক্তভোগী নারী হলেন খৈরুন বেগম, তিনি প্রবাসী নাজির মোল্লার স্ত্রী। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাকে চুল ধরে টেনে হেঁচড়ানো, ঘুষি মারা এবং তলপেটে লাথি মারা হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি মাতৃত্বকালীন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
হাসপাতালের বিছানা থেকে খৈরুন বেগম জানান, তার স্বামী গত ডিসেম্বরে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার-কোডেক) থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এরপর তিনি কুয়েতে চলে যান। তিন সন্তান ও চতুর্থ সন্তানের গর্ভবতী স্ত্রীকে আর্থিক সংকটে ফেলে রেখে যান। স্বামী এলাকায় চলমান যুদ্ধের কারণে টাকা পাঠাতে পারছেন না বলে তিনি জানান। ফলে পরিবার চালাতে তার হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কোডেকের কর্মীরা সাপ্তাহিকভাবে তাদের বাড়িতে কিস্তি আদায় করতে আসতেন। তিনি কষ্ট করে দুটি কিস্তি দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে ধানখালী শাখা ব্যবস্থাপক মনির হোসেন ও আরও তিনজন বকেয়া আদায় করতে তার বাড়িতে আসেন। এ সময় দুই নারী কর্মী তাকে বকেয়া কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দেন।
খৈরুন বেগম সময় চেয়ে বলেন, বিদেশ থেকে টাকা এলেই তিনি পরিশোধ করবেন। কিন্তু তিনি অসুস্থতার কথা বললে এনজিও কর্মীরা তাকে মৌখিকভাবে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে শাখা ব্যবস্থাপক তাকে চুল ধরে টেনে বাইরে বের করার চেষ্টা করেন। তিনি দরজা ধরে থাকলে তাকে লাথি মারা হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। নারী কর্মীরা তাকে চড় মারেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে বমি করতে থাকেন। এনজিও কর্মীরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
স্থানীয় প্রতিনিধির বক্তব্য
স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য মালা বেগম বলেন, তিনি একটি মধ্যস্থতা সভায় ছিলেন। এ সময় তাকে ঘটনা জানানো হয়। তিনি অবিলম্বে ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, একজন গর্ভবতী নারীর ওপর হামলা অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য।
চিকিৎসকের বক্তব্য
কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ববি মালকার জানান, ওই নারীর পেটে আঘাত করা হয়েছিল। তার আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়েছে। চার মাসের গর্ভের সন্তান বর্তমানে সুস্থ আছে। তবে তলপেটে আঘাতের কারণে তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এনজিও কর্মকর্তার বক্তব্য
কোডেকের ধানখালী শাখা ব্যবস্থাপক মনির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমরা শুধু তাকে অফিসে আসতে বলেছিলাম। তাকে মারধর করা হয়নি। তিনি অনেক দিন ধরে বকেয়া পরিশোধ করছেন না।'
পুলিশের বক্তব্য
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, পুলিশকে ঘটনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, 'এমন ঘটনা ঘটলে তা দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'



