আজ শনিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল, নিটিং ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি এক্সপো (বিটিকেজি এক্সপো) উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজির নির্বাহী পরিচালক স্পেন্সার লিন।
জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং নিয়ে উদ্বেগ
সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জ্বালানি তেলের সংকট এবং চলমান লোডশেডিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন শিল্প এলাকায় প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। পরশু দিন আশুলিয়ায় দিনের বেলায় ছয় ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছিল না। একটি কারখানা দিনের বেলায় সাধারণত ১০ ঘণ্টা কার্যক্রম চালায়। মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, দিনের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে ভালুকা, শ্রীপুর বা রাজেন্দ্রপুরের মতো পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিংয়ের সমস্যা আরও প্রকট।
উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়া
মোহাম্মদ হাতেম উল্লেখ করেন, কয়েক বছর ধরে শিল্পকারখানাগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তাই রপ্তানিও প্রতি মাসে একটু একটু করে কমছে। অনেক কারখানা তাদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করা গেলে এই খাতে রপ্তানি আয় বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারত।
উৎপাদন খরচ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি
বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার ফলে বেড়েছে পণ্যের চালান পৌঁছানোর সময় ও খরচ। এ ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ নানা কারণে তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন খরচ অন্তত ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়লেও ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি মূল্য আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা শ্রম আইন ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে আমাদের ওপর নজরদারি চালায়। তবে ক্রেতারা আমাদের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছেন কি না, সে বিষয় নিয়ে কেউ তদারকি করছে না।
বিটিকেজি এক্সপো প্রদর্শনী
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিকেএমইএ ও ইনফরচেইন ডিজিটাল টেকনোলজি যৌথভাবে এই বিটিকেজি এক্সপোর আয়োজন করেছে। আগামী বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) তৈরি পোশাকশিল্পের যন্ত্র ও প্রযুক্তি নিয়ে এই প্রদর্শনী শুরু হবে। চার দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ২ মে পর্যন্ত। এ ছাড়া প্রদর্শনীতে থাকছে বিকেএমইএ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) ও পোশাকশিল্পের ম্যাগাজিন টেক্সটাইল টুডের যৌথ আয়োজনে তিনটি সেমিনার। প্রদর্শনীটি বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, কানাডা, চীন, ভারত, জাপান, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, ফ্রান্স, হংকং, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩০টি দেশের এক হাজারের বেশি প্রদর্শনকারী অংশগ্রহণ করবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০০টি প্রতিষ্ঠান প্রদর্শনীতে অংশ নেবে। প্রদর্শনীতে প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ১ হাজার ৮০০টি বুথ থাকবে। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বাধুনিক টেক্সটাইল যন্ত্র, ডাই ও কেমিক্যালস, নিটিং ও বয়নপ্রযুক্তি, এমব্রয়ডারি, কাটিং ও সেলাই যন্ত্র, ওয়াশিং এবং ড্রাই ক্লিনিং প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে।
ক্রয়াদেশ কমার আশঙ্কা
বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই খাতে ক্রয়াদেশ কমেছে কি না, এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, জ্বালানির সংকটসহ মূল্যবৃদ্ধির ফলে ইউরোপের দেশসহ বিভিন্ন দেশে ভোক্তারা অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাচ্ছেন। অনেকে কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের মজুত (ইনভেন্টরি) বেড়ে গেছে। এর ফলে শুধু বাংলাদেশ নয়, বৈশ্বিকভাবে বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছে। ফজলে শামীম এহসান আরও বলেন, সাধারণত এই সময়ে ক্রয়াদেশ কিছুটা কম থাকে। তারপরও নিয়মিত ক্রয়াদেশেও কিছুটা ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। সাধারণত আগামী বছরের ক্রয়াদেশ মে ও জুন মাসে বেশি আসে। তাই এই সময়ের মধ্যে বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী মৌসুমে এই খাতে রপ্তানি প্রবাহ কিছুটা কমতে পারে।



