শুক্রবার সাভারের রানা প্লাজার সামনে গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের আয়োজনে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহত শ্রমিকদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সমাবেশে বক্তারা
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলন, নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চা এবং খনন ম্যাগাজিনের সম্পাদক বাদল শাহ আলম।
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি
বক্তারা বলেন, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে একটি নৃশংস ট্র্যাজেডি ঘটে। রানা প্লাজা ভবন ধসে ১১৩৬ জন শ্রমিক নিহত এবং ২৫০০ জনের বেশি আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকেই আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং অমানবিক অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। ভবনের মালিক ও যুবলীগ নেতা সোহেল রানা গ্রেপ্তার হলেও এখনো বিচার হয়নি।
শ্রমিক নিরাপত্তার অভাব
তারা আরও বলেন, স্পেকট্রাম, হামীম, গারিব অ্যান্ড গারিব, তাজরীন, রানা প্লাজা ও টাম্পাকো-সহ বিভিন্ন কারখানায় ভবন ধস ও অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর ঘটনা বছরের পর বছর ধরে চলছে, যা শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাবকে তুলে ধরে। এটা কারখানা মালিক, বিদেশি ক্রেতা, শাসক শ্রেণি ও রাষ্ট্রের চরম মুনাফালোভী মানসিকতার প্রতিফলন বলে তারা মন্তব্য করেন।
ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন
বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হয়নি। রানা প্লাজার ৪৮% শ্রমিক এখনো বেকার রয়েছেন। চরম দুর্দশায় জীবনযাপন করলেও পূর্ববর্তী সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন আহত ও প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকারেরও এসব দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি নেই বলে তারা দাবি করেন।
আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান
শ্রমিকদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, সাম্রাজ্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী শক্তির সাথে জোটবদ্ধ শাসক শ্রেণির কাছ থেকে শ্রমিক, কৃষক ও নিপীড়িত জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তারা সাম্রাজ্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সংবিধান ও সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবাইকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।



