ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ
ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে এম জুবায়দুর রহমানকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর পর থেকে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তখন গভর্নর ছিলেন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর।

পদত্যাগের পটভূমি

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং গভর্নর পদে মোস্তাকুর রহমান যোগদানের পর ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতবিরোধ হয়। অনলাইনে সভায় উপস্থিত থাকার শর্তে দেড় মাসের ছুটিতে দেশের বাইরে যান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়। গত ১২ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাঁদের এই ছুটি অনুমোদিত হয়।

পরিচালনা পর্ষদের সভা ও আন্দোলন

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আজ ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকা হয়েছিল। ব্যাংকের গ্রাহক ও কিছু কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয়ের নিচে আন্দোলন শুরু করেন। তাঁরা ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগ না করার জন্য আন্দোলন করেন। এ ছাড়া চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ চান। এমন পরিস্থিতিতে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এম জুবায়দুর রহমান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে ছুটিতে থাকা এমডি ওমর ফারুক খানও পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে ব্যাংকটির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে পর্ষদের সভাটি বাতিল হওয়ায় এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে জানতে এম জুবায়দুর রহমান ও ওমর ফারুক খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের সরিয়ে স্বতন্ত্র পরিচালকদের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা নেমেছে ১৩৭ কোটি টাকায়। তখন খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ শতাংশে। ব্যাংকটির ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এখন খেলাপি।

ব্যাংকটির শেয়ার মালিকানায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হিস্যা ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে (মার্চ, ২০২৬) নেমেছে। অন্যদিকে ব্যাংকটির প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তা জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।