আজ সোমবার বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সংগঠনের আহ্বায়ক নুর উন নবী।
শেয়ার ফিরিয়ে দেয়ার দাবি
২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের সময় যেসব শেয়ার আগের মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল, তা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। এমন উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম ব্যানারে আন্দোলনকারী গ্রাহকেরা।
স্মারকলিপি প্রদান
এই দাবিসহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা, মালিকানা ও গ্রাহকের স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেবে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম নেতারা এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন। ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান সংগঠনের আহ্বায়ক নুর উন নবী।
স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান
সংগঠনটির দাবি, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।
দাবিগুলো
- অনতিবিলম্বে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন।
- ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অনিয়মের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।
- ইসলামী ব্যাংকগুলোকে ঘিরে আতঙ্ক ও গুজব সৃষ্টির প্রচেষ্টা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
- বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে ব্যাংকের দায় পরিশোধ করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা
ফোরামের নেতারা বলেছেন, ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব হলো আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
গ্রাহকদের উদ্বেগ
ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত ও স্বার্থের সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা জড়িত। তাই ব্যাংকটিকে ঘিরে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পটভূমি
২০১৭ সালের ইসলামী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণে নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ হারায় গ্রুপটি। এর পর থেকে ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যানসহ পাঁচ পরিচালকই বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন। গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ অবস্থা
গতকাল রাতে চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদে বাতিল করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে একদল গ্রাহক।



