বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহ মবের শিকার হয়ে পদত্যাগ করেছেন
আহসান উল্লাহ মবের শিকার হয়ে পদত্যাগ করেছেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহ মবের শিকার হয়ে পদত্যাগ করেছেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহ মবের শিকার হয়ে পদত্যাগ করেছেন। গতকাল বুধবার তিনি নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। এই পদত্যাগের মূল কারণ হিসাবে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় কর্মকর্তাদের মবের মুখে পড়ার ঘটনাকে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মবের ঘটনা ও পদত্যাগের প্রেক্ষাপট

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা আহসান উল্লাহর গায়ে হাত দিয়ে মব তৈরি করেন। এই ঘটনার পর তিনি আর অফিসে যাননি এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। গভর্নরের কাছে দেওয়া চিঠিতে তিনি লিখেছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে গভর্নরের উপদেষ্টার মতো সম্মানজনক পদে নিজেকে আর নিযুক্ত রাখতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না।

আহসান উল্লাহর পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো এই চুক্তিভিত্তিক সেবার অবসান হবে। পদত্যাগের নোটিশ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ৩০ দিন পর কার্যকর হবে। তিনি এক বছরের সামান্য বেশি সময় দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা ও সম্মান পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুদ্রানীতি কমিটির সদস্যের পদত্যাগ

এদিকে, গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির সদস্য পদ থেকে অর্থনীতিবিদ সাদিক আহমেদও পদত্যাগ করেছেন। সাদিক আহমেদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ছিলেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহসান উল্লাহর ভূমিকা ও সংস্কার উদ্যোগ

আহসান উল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত কর্মকর্তা ছিলেন এবং অবসরের পর একাধিকবার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। সর্বশেষ আহসান এইচ মনসুর গভর্নর হওয়ার পর তাঁকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংস্কারের জন্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি পদোন্নতিতে পরীক্ষাপদ্ধতি চালু, বিভিন্ন পদে জনবল কমানো, বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন আধুনিকায়নসহ নানা সংস্কার উদ্যোগ নিতে শুরু করেন।

এই সংস্কার উদ্যোগের ফলে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির গতি কমে যায়, যা অনেক কর্মকর্তাকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। এই পরিস্থিতিতে মব তৈরি করে আহসান উল্লাহকে বের করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম উপদেষ্টার ঘাড় ধরে গাড়িতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন বলে জানা গেছে।

গভর্নর পরিবর্তন ও নতুন নিয়োগ

গভর্নর পরিবর্তনের সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকলে আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংক ছেড়ে চলে যান। সেদিনই সরকার মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। মোস্তাকুর রহমান একজন ব্যবসায়ী এবং বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। এই পরিবর্তন ও পরবর্তী মবের ঘটনা বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরিবেশে উত্তপ্ত পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আহসান উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি গভর্নরের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’ এই পদত্যাগ ও মুদ্রানীতি কমিটির সদস্যের পদত্যাগ বাংলাদেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।