রাঙ্গামাটির লংগদুতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মালিক মো. রাসেল গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৪ মে) থেকে ওই আউটলেটে তালা ঝুলিয়ে তিনি উধাও হয়ে যান, যা গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ ও জালিয়াতির কৌশল
স্থানীয় গ্রাহকরা জানান, তারা নিয়মিত ব্যাংকে এসে টাকা জমা দিতেন এবং জমার রশিদও বুঝে নিতেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রাসেল সেই টাকা গ্রাহকের মূল অ্যাকাউন্টে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দিতেন এবং ভুয়া মানি রিসিড গ্রাহকদের দিতেন। অনেক সময় মৌখিক আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রাহকের টাকা ব্যক্তিগত ব্যবসায়ও ব্যবহার করতেন। গ্রাহকদের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি প্রায় ৬ থেকে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া
বেশ কয়েকজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা ব্যাংকে এসে টাকা জমা দিয়েছি, আমাদের কাছে রিসিভ আছে। কিন্তু এখন শুনছি আমাদের অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। আমাদের কাছে জমা রশিদ রয়েছে। সারা জীবনের সঞ্চয় নিয়ে রাসেল পালিয়ে গেছে।'
ব্যবসায়ী সমিতির উদ্বেগ
এ বিষয়ে লংগদু বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম মেম্বার বলেন, 'আমরা ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি যে রাসেল গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়েছে, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। আমরা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। গ্রাহকদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। আশা করছি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটা সমাধান করবেন।'
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ইসলামী ব্যাংকের রাঙ্গামাটি জেলা শাখা অফিসের কর্মকর্তা আশরাফুল জানান, 'ব্যাংকিং নিয়মানুযায়ী যাদের বৈধ লেনদেন ও অ্যাকাউন্টে টাকা জমা আছে, তাদের ভয়ের কিছু নেই; তারা টাকা ফেরত পাবেন। তবে ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরে কোনো প্রকার ব্যক্তিগত লেনদেন বা নিয়মবহির্ভূত লেনদেনের দায়ভার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না।'
পুলিশের অবস্থান
লংগদু থানার ওসি মো. জাকারিয়া বলেন, 'বিষয়টি আমরা অবগত আছি। তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগ নিয়ে কেউ আমাদের কাছে আসে নাই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'



