ইসলামী ব্যাংকের সামনে উত্তেজনাকর দিন: বরখাস্ত কর্মী ও গ্রাহকদের পাল্টা সমাবেশ
রোববার সারাদিন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। একদিকে বরখাস্ত ব্যাংক কর্মীদের মানববন্ধন, অন্যদিকে 'ইসলামী ব্যাংক ভিকটিমস কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিল' এর পাল্টা সমাবেশে পরিস্থিতি টানটান হয়ে ওঠে।
বরখাস্ত কর্মীদের অবস্থান ও প্রত্যাহার
সকাল ১০টা থেকে ইসলামী ব্যাংকসহ মোট ছয়টি ব্যাংক থেকে বরখাস্ত হওয়া কয়েক হাজার কর্মী ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেন। তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। গ্রাহকদের পূর্বঘোষিত সমাবেশ শুরু হওয়ার আগে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরখাস্ত কর্মীরা স্থানটি ত্যাগ করেন।
গ্রাহকদের পাল্টা সমাবেশ ও পাঁচ দফা দাবি
বরখাস্ত কর্মীদের চলে যাওয়ার পরই ইসলামী ব্যাংক ভিকটিমস কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিলের সমাবেশ শুরু হয়। সংগঠনের সভাপতি নুরুন নবী মাণিক গ্রাহক সমাবেশে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সম্পৃক্ত শীর্ষ 'লুটেরাদের' সকলের গ্রেপ্তার
- দেশে সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরত
- ব্যাংক রেজোলিউশন আইনে যোগ করা ১৮/ক ধারা বাতিল
- ব্যাংকের মালিকানা যাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে, তাদের ফেরত দেওয়া
- ব্যাংকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্কতা
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ব্যাংক দখলের চেষ্টা বন্ধ, 'কালো আইন' বাতিল এবং এস আলাম গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
ব্যাংকের সামনে 'ভিড়' তৈরি ও দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান
গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ ব্যাংকের সামনে 'ভিড়' তৈরি করার জন্য সরকারকেই দায়ী করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কোনো অবৈধ দখলদার গোষ্ঠীকে ব্যাংকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।
জনমত গঠনে ১৫ দিনের লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি
উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য জনমত গঠনে ইসলামী ব্যাংক ভিকটিমস কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিল আগামী ১৫ দিন ধরে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা ব্যাপক জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাবে বলে জানানো হয়।
মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান উত্তেজনা
উল্লেখ্য, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। মাঠপর্যায়ে এমন পাল্টা সমাবেশ ও কর্মসূচি সেই উত্তেজনারই প্রতিফলন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। একসময় এস আলাম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি সংকটময় অধ্যায় তৈরি করেছে।



