সরকারি ঋণ নিয়ে উদ্বেগের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার আশ্বাস
অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার ঋণ নিলে তা জনগণের কল্যাণেই ব্যয় হবে এবং এই অর্থ অপচয় বা চুরি হবে না। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারি ঋণকে অতিরিক্ত ভীতিকরভাবে দেখার প্রয়োজন নেই
জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারি ঋণকে অতিরিক্ত ভীতিকরভাবে দেখার প্রয়োজন নেই। বিশ্বের অনেক দেশ তাদের জিডিপির তুলনায় অনেক বেশি ঋণ বহন করে। উদাহরণ হিসেবে জাপান-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটি জিডিপির কয়েকগুণ ঋণ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, অথচ বাংলাদেশ এখনো সে পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা রেড জোনে চলে গেছি তা না।’
ঋণের চাপ ও সংকটের মূল কারণ
ঋণের চাপ শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর পড়ে এ কথা স্বীকার করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমাদের সংকট আসলে কী ছিল? আমাদের যে সঞ্চিত ঋণ আছে, সেটার বড় অংশ মিসইউজড হয়েছে। ঋণ সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা এই জায়গায়। আমরা এমন সব প্রকল্প নিয়েছি, নিয়ে চুরি করে ফেলেছি। ফলে একটি অংশ আসলে জনগণের কল্যাণে লাগেনি।’
সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা
তিনি বলেন, সরকারকে ঋণ আসলে করতে হয়। পৃথিবীতে ঋণ ছাড়া কোনো সরকার নাই। ব্যক্তির বাজেট আর সরকারের বাজেটের পার্থক্য আছে। ব্যক্তি আয় বুঝে ব্যয় করে, সরকার ব্যয় বুঝে আয় করে। (সরকার) আপনি ব্যয় ঠিক করেন, তারপর দেখেন কত আয় করতে পারবেন। যদি না পারেন, কম হয় সারা পৃথিবীতেই ঘাটতি হয় এবং বাকিটা আপনি লোন নেন।
জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি করে এই যে আমরা ভর্তুকি কমানোর চেষ্টা করছি, লোন এর পরও সরকারকে আসলে নিতে হবে। এটা যতটা ন্যূনতম রাখা যায়, সেই চেষ্টা করা...কারণ আমরা জানি, ব্যাংকিং সেক্টর থেকে যদি সরকার প্রচুর লোন নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতের জন্য লোন নেওয়ার সুযোগ কমে যায়। আর যদি টাকা ছাপিয়ে নেওয়া হয়, সেটাও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়। এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখেই সরকার ঋণ ব্যবস্থাপনা করছে বলে জানান তিনি।
শেষে আশ্বাস
সবশেষে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘সরকার যদি লোন নেয়, লোন নেবে, সেটা জনগণের কল্যাণের জন্যই হবে। এই টাকা চুরি হবে না।’



