সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবার হারানো পাভেলের পাঁচ বছর পরও ক্ষতিপূরণ মেলেনি
সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবার হারানো পাভেলের ক্ষতিপূরণ মেলেনি

পাঁচ বছর আগে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের ১৮ আরোহীর মধ্যে শুধু পাভেল মিয়া বেঁচে ফিরেছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তাঁর বাবা-মাসহ সফরসঙ্গী সবাই। সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। বর্তমানে বৃদ্ধ দাদি, ফুফু ও ছোট বোন নিয়ে পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে পাভেলকে। সংসারের অভাব ঘোচাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন তিনি।

দুর্ঘটনার বিবরণ

২০২১ সালের ২৬ মার্চ শুক্রবার ভোরে পাভেলের বাবা মোখলেছার রহমান ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু পরিবারসহ রংপুর থেকে নাটোর ও রাজশাহী ভ্রমণে বের হন। বগুড়ায় খাওয়াদাওয়া শেষে তারা নাটোরের রাজবাড়ি ঘুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে রওনা দেন। বেলা সোয়া ১টার দিকে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের কাটাখালী থানার সামনে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

ওই ঘটনায় কাটাখালী থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, মহাসড়কের পাশে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকা মাইক্রোবাসটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা আহাজারি করছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাভেলের চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা

দুর্ঘটনায় পাভেলের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, মুখের সামনের দুটি দাঁত এবং বুকের একটি হাড়ও ভেঙে যায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নয় দিন থাকার পর তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আরও প্রায় তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

বর্তমানে পাভেলের ছোট বোন মোহনা আখতার ওই সফরে যাননি। জেএসসি পরীক্ষা থাকায় তিনি বাড়িতেই ছিলেন। পাভেল বলেন, ‘ও গেলে আজ হয়তো আমাদের পরিবারে কেউই বেঁচে থাকত না।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষতিপূরণের দাবি

২০২৩ সালে হানিফ পরিবহন কর্তৃপক্ষ পাভেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে রংপুরে টিকিট পরীক্ষকের চাকরি দেয়। শুরুতে বেতন ছিল সাত হাজার টাকা। বর্তমানে তাঁকে মাসে ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। তবে এ অর্থে নিজের ও বোনের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাভেল গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) রাজশাহী কার্যালয়ে ক্ষতিপূরণের আবেদন নিয়ে যান। কিন্তু আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। বিআরটিএর রাজশাহী বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পার্কন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের উত্তরাধিকারী ও আহত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিধিমালা ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। এ ছাড়া দুর্ঘটনার এক মাসের মধ্যে আবেদন করার বিধান ছিল। ঘটনাটি পাঁচ বছর আগের হওয়ায় ক্ষতিপূরণের সুযোগ নেই।

তবে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, পাভেল ক্ষতিপূরণের জন্য অনেক জায়গায় ঘুরছেন। সরকার চাইলে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারে।

শিক্ষাজীবন

দীর্ঘ শিক্ষাবিরতির কারণে পাভেল আর সাধারণ শাখায় পড়তে পারেননি। পরে কারিগরি শাখায় ভর্তি হন। এবার পীরগঞ্জের খালাশপীর বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তাঁর বোন মোহনা আখতারও এবার পীরগঞ্জ মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

পীরগঞ্জের রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, পাভেলের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। লেখাপড়া করছে, আবার সাহায্য-সহযোগিতার ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে। খুব কষ্টে দিন কাটছে তাঁদের।