বিশ্বকাপ পতাকা বিক্রি করে বাড়তি আয়, ক্রেতাদের পছন্দ আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপ পতাকা বিক্রি করে বাড়তি আয়, পছন্দ আর্জেন্টিনা

৫৫ বছর বয়সী দেলোয়ার মাবরুর পেশায় দিনমজুর। মাদারীপুরের শিবচরে তাঁর বাড়ি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে কিছু বাড়তি আয়ের আশায় তিনি ঢাকায় এসেছেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় তাঁর সঙ্গে দেখা যায়। তিনি একটি লাঠিতে কিছু পতাকা ঝুলিয়ে বাকি পতাকা ব্যাগে নিয়ে হাঁটছিলেন।

পতাকা বিক্রির অবস্থা

দেলোয়ার মাবরুর জানান, প্রতিদিন মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, গাবতলী, সংসদ ভবন এলাকা, ফার্মগেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে পতাকা বিক্রি করেন। এ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০ হাজার টাকার পতাকা বিক্রি করেছেন। কোন দেশের পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে প্রথমে মুচকি হাসলেও পরে তিনি বলেন, ‘আইছি তো ১০-১২ দিন হইছে। আর্জেন্টিনার পতাকা বেশি বিক্রি করেছি।’

বাড়তি আয়ের আশা

দেলোয়ার মাবরুর এবারই প্রথম পতাকা বিক্রির জন্য ঢাকায় এসেছেন। তিনি রায়েরবাজার এলাকায় একটি মেসে উঠেছেন, যেখানে এক মাসের জন্য ৮০০ টাকা অগ্রিম ভাড়া দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে গ্রাম থেকে আরও তিনজন এসেছেন। তাঁরা মোট চারজন মিলে আধা পাকা ঘরটি ভাড়া নিয়েছেন। দেলোয়ার জানান, গ্রামে তিনি প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা উপার্জন করেন, যা দিয়ে সংসার চলে না। তাই বাড়তি আয়ের আশায় তিনি ঢাকায় এসেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিক্রি কমছে

বিশ্বকাপ শুরুর পর পতাকা বিক্রি ভালো থাকলেও এখন তা ধীরে ধীরে কমছে। দেলোয়ার বলেন, ‘আইজকা সব থেইকা কম বেচছি; আর দুইডি দিন দেহুম। এমন থাকলে চইল্লা যামু।’ তিনি ব্যবসায় ঝুঁকি নিতে চাননি। গ্রাম থেকে আসা চারজন পরিচিত একজনের কাছ থেকে চুক্তিতে পতাকা নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যা বেচতে পারুম, ওগুলোর টেহা দিমু। বাকিডি ফেরত দিমু।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্য বিক্রেতারাও

৫৭ বছর বয়সী কাজী কামরুল ইসলাম পেশায় হাঁড়িপাতিল বিক্রেতা। বাড়তি আয়ের আশায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে পাঁচ দিন আগে ঢাকায় এসেছেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তাঁর সঙ্গে দেখা যায়। তিনি এর আগের তিনটি ফুটবল বিশ্বকাপেও পতাকা বিক্রির জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। এবার তিনি পতাকা বিক্রির অবস্থা বুঝে এসেছেন। কাজী কামরুল প্রতিদিন চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার পতাকা বিক্রি করেন। আর্জেন্টিনা জেতার পর পতাকা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছিল বলে জানান। তাঁর পরিচিত আরও আটজন ঢাকায় এসেছেন, যারা জিগাতলায় উঠেছেন।

আরেক বিক্রেতা মো. বোরহান রাজধানীর নীলক্ষেতে ফুটপাতে বিভিন্ন স্টেশনারি বিক্রি করেন। তাঁর বয়স ১৯ বছর, গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। তিনি বোনের সঙ্গে নীলক্ষেতে থাকেন। বোনের স্বামীর দোকান পরিচালনা করেন তিনি, যেখানে বেতন ১০ হাজার টাকা। বোরহানের কাছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, পর্তুগাল, জার্মানি, ইরান, সৌদি আরব, মরক্কোসহ ২০টি দেশের পতাকা আছে, যা তিনি ১২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘শুরুতে চলছিল। এহন স্লো হয়া গেছে।’ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা প্রায় সমান সমান বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বোরহান।