স্পেনের জাদুকরি রাত: সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিল লা রোজা
স্পেনের জাদুকরি রাত: সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিল লা রোজা

ম্যাচ শেষ। বড় জয়ের আনন্দে হাত মেলাচ্ছেন স্পেনের খেলোয়াড়রা। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে দুর্বল কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে হতাশ করেছিল ইউরোপের চ্যাম্পিয়নরা। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ গোলের উৎসব করে ‘লা রোজা’রা জানান দিল—তারা বিশ্বজয়ের লক্ষ্য নিয়েই এসেছে।

ম্যাচের শুরুতে সৌদির রক্ষণাত্মক কৌশল ব্যর্থ

শুরুতেই রক্ষণাত্মক খোলসে ঢুকে পড়েছিল সৌদি আরব। ৫-৪-১ ফরমেশনের ‘লো ব্লক’ স্প্যানিশ মাঝমাঠের শিল্পীদের ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। প্রথম ২৪ মিনিটেই ৩ গোল খেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া দেশটি।

ইয়ামালের প্রথম বিশ্বকাপ গোল

ম্যাচের ১০ মিনিটে বাঁ প্রান্ত ধরে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে যান মিকেল ওইয়ারসাবাল। রক্ষণ ভেঙে বক্সে নিচু ক্রস বাড়ান তিনি। সেখানে বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে বল জালে জড়ান স্প্যানিশ ফুটবলের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম গোল, হয়তো এক নতুন গল্পের শুরু।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ওইয়ারসাবালের জোড়া গোল

২১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল দানি ওলমোর ফ্লিকে যায় ছয় গজ বক্সে। সৌদি ডিফেন্ডারদের ক্লিয়ার করতে না পারার সুযোগে মাথা ছুঁইয়ে বলের দিক বদলে দেন এমেরিক লাপোর্ত। সেখান থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান ওইয়ারসাবাল। তিন মিনিট পর ৩-০! মার্ক কুকুরেয়ার বুক দিয়ে নামানো ক্রস দানি ওলমো বাড়িয়ে দেন হেডে। নিখুঁত শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ওইয়ারসাবাল। প্রথমার্ধের প্রথম তিনটি গোলেই সরাসরি জড়িয়ে থাকেন রিয়াল সোসিয়েদাদ স্ট্রাইকার। ৩৬ মিনিটে তাঁর বাঁ পায়ের বাঁকানো শট ক্রসবারে লেগে ফিরলে হ্যাটট্রিক হয়নি।

রদ্রির মাঝমাঠের ছন্দ

মাঝমাঠে রদ্রি ফিরে পান চেনা ছন্দ। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণ চেরা পাস—সবখানেই তিনি একচ্ছত্র অধিপতি। ফুটবল যদি কবিতা হয়, তবে রদ্রি ছিলেন তার ছন্দ নিয়ামক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ওইয়ারসাবাল ও ইয়ামালকে বিশ্রাম দিয়ে মাঠে নামান ফেরান তোরেস ও ইয়েরেমি পিনোকে। ৪৯ মিনিটে চতুর্থ গোলটি আসে সৌদির দুর্ভাগ্য হিসেবে। আলেক্স বায়েনার কর্নার থেকে কুকুরেয়া ভলি করলে সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস দারুণ সেভ করলেও বল ডিফেন্ডার হাসান আল-তাম্বাকতির গায়ে লেগে জালে জড়ায়।

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা

৬৫ মিনিটে মিকেল মেরিনোর থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে ফেরান তোরেসের শট পোস্টের বাইরে যায়। শেষ মুহূর্তে পেদ্রো পোরোর ক্রসে ফেরান তোরেসের গোল ভিএআর চেকে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। পুরো ম্যাচে সৌদি আরব প্রথম অন-টার্গেট শট নেয় ৮০ মিনিটের পর। বলের দখল ও ছন্দের মেলবন্ধনে স্পেন প্রমাণ করে—কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্রেফ একটা বাজে দিন কেটেছে তাদের। ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে ওঠা স্পেন সত্যিই বিশ্বকাপের বড় দাবিদার।