ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা খেয়েছে পর্তুগাল। যে দলকে অনেকে নিউ জার্সির ফাইনালে দেখছিলেন, তাদের শুরুটা এত ম্লান, এত নিরুত্তাপ! দায়টা রোনালদোর ওপরই পড়েছিল। পড়ারই কথা।
রোনালদোর পারফরম্যান্সে প্রশ্ন
ওই ম্যাচে ৯০ মিনিটে বল ছুঁয়েছেন মাত্র ২৫ বার। পুরো ম্যাচ খেলেও মাঠে সবচেয়ে কম স্পর্শ! গোলের হুমকি? নেই। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা? সেটাও প্রায় অনুপস্থিত। এটা শুধু একটা ম্যাচের গল্প নয়। বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও ইউরো) সর্বশেষ ১০ ম্যাচে একটিও গোল নেই রোনালদোর। তিনি এখন যেন সেই শিল্পী, যাঁর তুলির আঁচড়গুলো স্রেফ স্মৃতি হয়ে গেছে!
বয়সের বাস্তবতা
ডিআর কঙ্গোর মিডফিল্ডার এনগাল’আয়েল মুকাউ সেদিন ম্যাচ শেষে বলেছিলেন, ‘তিনি আগের মতো নেই। বয়স হয়েছে।’ একসময় কেউ এমন কথা বলার সাহসই পেত না।
পর্তুগালের দ্বিধা
লিসবনের মেট্রোতে, পার্কে কিংবা পাবে একটাই আলোচনা: রোনালদো কি এখনো শুরুর একাদশে থাকার যোগ্য? কয়েক বছর আগে এমন প্রশ্ন উচ্চারণ করাই প্রায় রাষ্ট্রদ্রোহ ছিল। কিন্তু সত্য একসময় স্বাভাবিক বানিয়ে দেয় সবকিছু।
পর্তুগাল কোচ এখনো রোনালদোকে শুরুর একাদশে রাখছেন। পুরো ৯০ মিনিট খেলাচ্ছেন। যেন সময়কে জোর করে পেছনে টানার চেষ্টা। কিন্তু সময় তো নদী, পেছনে ফেরে না।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের গুরুত্ব
আজ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা তাই পর্তুগালের জন্য শুধু ৩ পয়েন্টের নয়। এমনিতে পর্তুগালের জন্য এই ম্যাচে জয় ছাড়া খুব একটা বিকল্প নেই। উজবেকিস্তানকে হারাতে না পারলে গ্রুপ থেকে নকআউটে ওঠা কঠিন হয়ে যাবে। তবে রোনালদোর জন্য আজকের ম্যাচ যেন এক শেষ সুযোগ—নিজেকে প্রমাণ করার, নিজের উত্তরাধিকারকে রক্ষা করার।
রোনালদোর সামনে দুই পথ
সেটা রোনালদো করতেই পারেন। কারণ, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে এই ৪১ বছর বয়সেও তিনি অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে ফেলার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু যদি সে রকম কিছু না হয়, তাহলে রোনালদোর সামনে দুটো পথ। এক. সময়কে অস্বীকার করে লড়াই চালিয়ে যাওয়া। দুই. সময়কে মেনে নিয়ে নিজের ভূমিকাটা বদলে ফেলা। দ্বিতীয় পথটা হয়তো বেশি কঠিন। কিন্তু সেটাই হয়তো বেশি যৌক্তিক।
কিংবদন্তিরা শুধু মাঠে নন, সিদ্ধান্তেও বড় হন। হিউস্টনের আলো আজ তাই কেবল একটি ম্যাচ দেখবে না। দেখবে এক মানুষের লড়াই, নিজের সঙ্গেই।



