রেকর্ড তৈরিই হয় ভাঙার জন্য—ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম নেই। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরুতেই কোচদের বয়সসংক্রান্ত একটি বিরল রেকর্ড অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকবার পরিবর্তিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কুরাসাওয়ের প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাট বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
৭৮ বছর বয়সে রেকর্ড
রোববার জার্মানির বিপক্ষে কুরাসাওয়ের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন ৭৮ বছর বয়সী এই ডাচ কোচ। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে ম্যাচ পরিচালনার কৃতিত্ব অর্জন করেন। এর আগে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন গ্রিসের সাবেক কোচ ওত্তো রেহাগেল। তিনি ২০১০ বিশ্বকাপে ৭১ বছর বয়সে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তারও আগে ২০০২ বিশ্বকাপে ৭০ বছর বয়সে প্যারাগুয়ের কোচ হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন সিজার মালদিনি।
চার দিনে তিনবার রেকর্ড পরিবর্তন
তবে এবারের বিশ্বকাপে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে সবচেয়ে বয়স্ক কোচের রেকর্ড তিনবার হাতবদল হয়। প্রথমে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস ৭৪ বছর বয়সে নতুন রেকর্ড গড়েন। কিন্তু সেই রেকর্ড টিকে ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। পরে চেকিয়ার কোচ মিরোস্লাভ কুবেক, যিনি প্রায় ৭৫ বছর বয়সী, সেই রেকর্ড নিজের নামে লেখান।
ডিক অ্যাডভোকাটের পুনরাগমন
অবশেষে কুরাসাওয়ের হয়ে দায়িত্ব পালন করে ডিক অ্যাডভোকাট সবাইকে ছাড়িয়ে যান এবং নতুন ইতিহাস তৈরি করেন। ২০২৪ সালে কুরাসাওয়ের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অধীনেই দলটি ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেয়ের অসুস্থতার কারণে তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর সহকারী কোচ ফ্রেড রুটেন অস্থায়ীভাবে দলের দায়িত্ব নেন। পরে তার মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে খেলোয়াড়রা অ্যাডভোকাটকে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানায়। শেষ পর্যন্ত মে মাসে তিনি আবারও দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
চার দশকের কোচিং ক্যারিয়ার
চার দশকেরও বেশি সময়ের কোচিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিক অ্যাডভোকাট বিশ্ব ফুটবলের পরিচিত এক নাম। ১৯৮০ সাল থেকে কোচিং পেশায় যুক্ত এই ডাচ কোচ তিন দফায় নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন ক্লাব ও জাতীয় দলের কোচ হিসেবেও সফলভাবে কাজ করেছেন। নেদারল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ কোরিয়া, বেলজিয়াম, রাশিয়া, সার্বিয়া, ইরাক এবং কুরাসাও—মোট আটটি দেশের জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার বিরল অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।



