ম্যাচের ৮৯ মিনিটে নিউ জার্সির মাঠে বাঁ উইংয়ে বল পেয়ে সেনেগালের তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ এক মুহূর্ত তৈরি করেন আর্লিং হলান্ড। এক ডিফেন্ডার পেছন থেকে তাঁর জার্সি টেনেও ধরেন, কিন্তু হলান্ডের বাড়ানো বল অস্কার বব পোস্টে মেরে দেন। এই মুহূর্তটি ম্যাচের অনেক কিছু বলে দেয়। সেনেগাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়লেও নরওয়েই জয়ের যোগ্য ছিল। ৩-২ গোলে জিতে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে নরওয়ে।
প্রথমার্ধে এগিয়ে নরওয়ে
ম্যাচের ৪৩ মিনিটে প্রথম গোলটি আসে বদলি ডিফেন্ডার মার্কুস পেদারসেনের পা থেকে। সেনেগাল ডিফেন্ডার কালিদু কুলিবালির ভুল পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে গোল করেন পেদারসেন। প্রথমার্ধ শেষে এই এক গোলেই এগিয়ে ছিল নরওয়ে।
হলান্ডের জোড়া গোল
বিরতির পর গোলের শুরু করেন হলান্ড। ৪৮ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের পাস থেকে দারুণ এক প্রতিআক্রমণে প্রথম গোলটি করেন তিনি। ৫৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটিও আসে সেনেগালিজ রক্ষণের দুর্বলতার সুবাদে। দুবারের চেষ্টাতেও বক্স থেকে বল ক্লিয়ার করতে পারেনি আফ্রিকার দলটি। মিডফিল্ডার প্যাট্রিক বার্গের পাস থেকে দারুণ ভলিতে বল জালে পাঠান হলান্ড।
সেনেগালের প্রত্যাবর্তন ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা
দুই গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া সেনেগাল ৫৩ মিনিটে একটি গোল পরিশোধ করে। সাদিও মানের পাস থেকে গোলটি করেন ইসমাইল সার। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (৯৩) নরওয়ে বক্সে জটলার ভেতর থেকে গোল পায় সেনেগাল। গোলটি করেন ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন। যোগ করা সময় ৯ মিনিট দেওয়ায় সেনেগাল হয়তো ম্যাচে ফিরতে পারে বলে মনে হয়েছিল, কিন্তু শেষ বাকি সময়ে নরওয়ে অন্তত দুটি গোলের সুযোগ নষ্ট করে।
হলান্ডের রেকর্ড ও নরওয়ের নকআউট নিশ্চিত
বিশ্বকাপে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই একাধিক গোল করা ষষ্ঠ খেলোয়াড় এখন হলান্ড। ২ ম্যাচে তাঁর গোল ৪টি। নরওয়ের হয়ে সর্বশেষ ১২ ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি, যার মধ্যে সর্বশেষ ৬ ম্যাচে অন্তত ২টি করে গোল। ‘আই’ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ফ্রান্স। ফ্রান্সের সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় নরওয়েও নকআউটে উঠেছে। সর্বশেষ ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলা নরওয়ে সেবার গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে (শেষ ষোলো) উঠেছিল। ২৮ বছর পর এবার বিশ্বকাপে ফিরে আবারও নকআউটে (শেষ ৩২ দলের রাউন্ড) উঠল নরওয়ে।



