মঙ্গলবার বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নরওয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার সময় গ্যালারিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে বসে ছিলেন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস। ব্লেজারের নিচে তিনি পরেছিলেন নরওয়ের লাল জার্সি—যা বর্তমানে দেশটিতে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পোশাকে পরিণত হয়েছে।
হাল্যান্ডের গোলে জয়, জার্সির চাহিদা তুঙ্গে
আর্লিং হাল্যান্ডের শেষ মুহূর্তের গোলে জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। তবে জার্সির সরবরাহ সংকটে দেশে হাজারো সমর্থক এখনও প্রিয় দলের জার্সি কিনতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন।
ফেডারেশন সভাপতির প্রতিক্রিয়া
জয়ের পর ক্লাভেনেস জানান, ‘জার্সির চাহিদা যে এত বেশি, তা আমরা সবাই অনুভব করেছি। এই চাহিদা আমাদের অবাক করেছে নাকি উৎপাদনেই সমস্যা রয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে।’
দোকানে দীর্ঘ লাইন, তাক খালি
নরওয়ের সম্প্রচারমাধ্যম টিভি২ জানায়, যেসব দোকানে সীমিতসংখ্যক জার্সি পৌঁছেছে, সেগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সমর্থকদের ভিড়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাক খালি হয়ে যাচ্ছে। ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছে নরওয়ে, আর দলটির সাফল্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।
দোকান ব্যবস্থাপকের বক্তব্য
অসলোর একটি ক্রীড়া সামগ্রীর দোকানের ব্যবস্থাপক অ্যান্ডার্স লিলেবের্গ টিভি২-কে বলেছেন, ‘চাহিদা একেবারেই অবিশ্বাস্য। জীবনে এমন পরিস্থিতি দেখিনি। দারুণ লাগছে।’ তিনি বলেন, ‘যারা নরওয়ের জার্সি কিনতে চান, তাদের সবাইকে দিতে না পারাটা হতাশার। আমরা চাই গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী যত বেশি সম্ভব ফুটবল–সংশ্লিষ্ট পণ্য দিতে। কিন্তু হাতে যতটুকু মজুত আছে, ততটুকুই বিক্রি করা সম্ভব।’
বিশ্বকাপে নরওয়ের জার্সির বৈচিত্র্য
বিশ্বকাপে ইরাক ও ফ্রান্সের বিপক্ষে লাল হোম জার্সি পরে খেলেছে নরওয়ে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে তারা খেলেছে সাদা জার্সিতে, আর সেনেগালের বিপক্ষে ছিল কালো জার্সি। দলের আক্রমণভাগে হাল্যান্ড থাকায় দেশের বাইরেও নরওয়ের জার্সির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।
বিলাসী সমস্যার সমাধান জরুরি
ক্লাভেনেস বলেন, ‘এটি অবশ্যই বিলাসী ধরনের একটি সমস্যা। তবে এই সমস্যার সমাধান আমাদের করতেই হবে।’



