ডালাসে অস্ট্রেলিয়া-মিশর মহারণ: শেষ ষোলোর টিকিট লড়াই
ডালাসে অস্ট্রেলিয়া-মিশর মহারণ: শেষ ষোলোর টিকিট লড়াই

বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ডালাসের মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও মিশর। এক দল শরীরী ফুটবল, ধৈর্য আর শৃঙ্খলার প্রতীক; অপর দল আবেগ, গতি আর ইতিহাস বদলে দেওয়ার ক্ষুধা নিয়ে এসেছে। এই ম্যাচ শুধু শেষ ষোলোতে ওঠার নয়, নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ। জয়ী দল খেলবে আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দের বিপক্ষে।

অস্ট্রেলিয়ার পথচলা: শক্ত রক্ষণ ও ধৈর্য

চলতি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার পথচলা ঝলমলে নয়। গ্রুপ ‘ডি’ থেকে চার পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়ে তারা শেষ ৩২ নিশ্চিত করে। তিন ম্যাচে এক জয়, এক ড্র, এক হার। তুরস্ককে ২–০ গোলে হারিয়ে শক্তির পরিচয় দেয় তারা; যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একই ব্যবধানে হারে। শেষ ম্যাচে প্যারাগুয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে। তিন ম্যাচে মাত্র দুই গোল করেছে, হজমও দুই। গোল ব্যবধান শূন্য। এই সংখ্যা প্রমাণ করে, অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সহজ নয়।

অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পপোভিচ পুরো টুর্নামেন্টে দলকে শৃঙ্খলার মধ্যে রেখেছেন। তার পরিকল্পনা পরিষ্কার: পেছনটা শক্ত রাখো, সামনে সুযোগ তৈরি করো, ম্যাচ যত দীর্ঘ হবে তত প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়াও। নকআউটের আগে দল টাইব্রেকারের প্রস্তুতিও নিয়েছে। সহকারী কোচ ও সাবেক মিডফিল্ডার মাইল ইয়েদিনাক খেলোয়াড়দের মানসিক ও কারিগরি প্রস্তুতিতে কাজ করছেন। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বাস করে, ম্যাচ শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর লড়াইয়েও গড়াতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ম্যাচের আগে পপোভিচ বলেছেন, “নকআউটে সৌন্দর্য নয়, ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ধৈর্য ধরে নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। ম্যাচ যত এগোবে, তত সুযোগ আসবে।”

দলের রক্ষণভাগের বড় ভরসা হ্যারি সাউতার। মধ্যমাঠে জ্যাকসন আরভিন ও কনর মেটকাফ, সামনে অভিজ্ঞ ম্যাথিউ লেকি সুযোগ খোঁজেন। সুযোগ পেলে নেস্টরি ইরানকুন্ডাও ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় স্বপ্নের জায়গা: বিশ্বকাপের নকআউটে এখনও বড় জয় তাদের ইতিহাসে লেখা হয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মিশরের আবেগ ও ইতিহাস বদলের ক্ষুধা

মিশর এসেছে আবেগ আর অপেক্ষা নিয়ে। বহু বছর বিশ্বকাপ তাদের কাছে ছিল অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতি। এবার ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার নকআউট পর্বে উঠে এসেছে নতুন বিশ্বাস নিয়ে। গ্রুপ ‘জি’ অপরাজিত থেকে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে। শুরুতে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১–১ ড্র, এরপর নিউজিল্যান্ডকে ৩–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়, শেষ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ১–১ ড্র। তিন ম্যাচে পাঁচ গোল, হজম তিন।

মিশরের ফুটবল অনেকটাই আবেগের ওপর দাঁড়িয়ে। পুরো দল একসঙ্গে খেলছে। সবচেয়ে বড় নাম মোহাম্মদ সালাহ। গ্রুপ পর্বে গোল করেছেন, সুযোগ তৈরি করেছেন, আক্রমণের কেন্দ্র ছিলেন। তবে তার হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত কি না—এ প্রশ্ন আছে। অনুশীলনে ফিরেছেন, শেষ সিদ্ধান্ত ম্যাচের কাছাকাছি নেওয়া হবে।

মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেছেন, “আমরা কাউকে ভয় পাই না। নকআউটে সাহস ছাড়া খেলা যায় না। অস্ট্রেলিয়া কঠিন দল, কিন্তু আমরা নিজেদের সুযোগ তৈরি করব।” সালাহও বলেছেন, “এটা শুধু একটা ম্যাচ নয়। পুরো দেশের অনুভূতি আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা অনেক দূর আসতে চাই।”

মিশরের শক্তি শুধু সালাহ নন। ওমর মারমুশ, ত্রেজেগে, ইমাম আশুররা আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। আগের মতো একা একজনের দল নয় তারা।

ম্যাচের কৌশল: গতি বনাম ধৈর্য

দুই দলের দেখা খুব বেশি নয়। ২০১০ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে মিশর ৩–০ গোলে জিতেছিল। কৌশলগতভাবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হবে গতি বনাম ধৈর্যের। অস্ট্রেলিয়া চাইবে ম্যাচকে শরীরী লড়াই বানাতে, জায়গা ছোট করতে, ম্যাচ দীর্ঘায়িত করতে। মিশর চাইবে দ্রুত বল নিয়ে সামনে উঠতে, ছন্দ তৈরি করতে, আর সুযোগ পেলে এক আঘাতে ম্যাচ ভেঙে দিতে।

ম্যাচটি ২ জুলাই ২০২৬ রাতে ডালাসে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে একই দিনে স্পেন-অস্ট্রিয়া ও পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ রয়েছে।