বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দফতরে আকস্মিক অগ্নিনির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকালে কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সদর দফতরে অগ্নিকাণ্ড ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের লক্ষ্যে এই আকস্মিক 'ফায়ার অ্যালার্ম ড্রিল' অনুষ্ঠিত হয়। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এই মহড়ার নির্দেশ দেন।
মহড়ার উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন
মহড়ায় দেখা যায়, সদর দফতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা বাস্তবসম্মতভাবে যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে হঠাৎ করেই ফায়ার অ্যালার্ম বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অ্যালার্ম বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে ভবনে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারী দ্রুত নির্ধারিত 'অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট'-এ অবস্থান নেন, যা মহড়ার সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মহড়ায় অংশগ্রহণকারীদের আগুনের বিভিন্ন প্রকারভেদ এবং প্রতিটি প্রকার অনুযায়ী উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপক (এক্সটিংগুইশার) ব্যবহারের প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়।
ড্রিল চলাকালীন কার্যক্রম
ড্রিল চলাকালীন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নির্দেশনা অনুসরণ করে দ্রুত ভবন ত্যাগ, আহতদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহারের বাস্তবধর্মী ধারণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের সময় করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সচেতনতা বাড়াতে তাৎক্ষণিক দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়।
চেয়ারম্যানের বক্তব্য
মহড়া শেষে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মহড়া ও সচেতনতার কোনও বিকল্প নেই। আজকের এই আকস্মিক ড্রিলের মাধ্যমে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তুতি ও দক্ষতা কার্যকরভাবে যাচাই করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মহড়া নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে সবাই আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
কর্মকর্তাদের মতামত
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, এ ধরনের আকস্মিক ও বাস্তবমুখী মহড়া শুধু তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি যাচাই করতেই সহায়ক নয়, বরং সার্বিক নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ফলে বেবিচক সদর দফতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত, কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



