দেশের শীর্ষ কিউ খেলোয়াড়দের একত্রিত করে ৩৯তম জাতীয় স্নুকার চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিলিয়ার্ডস অ্যান্ড স্নুকার ফেডারেশনের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতাটি ঢাকা বোট ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য
বৃহস্পতিবার একই স্থানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের আয়োজকরা বিভিন্ন তথ্য জানান। ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি রুবেল আজিজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিলিয়ার্ডস অ্যান্ড স্নুকার ফেডারেশনের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শারকার মো. সামসুদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ডা. মো. জহিরুল ইসলাম। এছাড়া ক্লাবের সদস্য প্রশাসন নকিব সরকার অপু, সদস্য অর্থ সৈয়দ আবু সোলায়মান, ক্রীড়া ইনচার্জ মনির হোসেন ইমন এবং অন্যান্য ইসি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতার বিবরণ
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, এবারের আসরে দেশের ৩২টি ক্লাবের ১৮৩ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করছেন। আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে চ্যাম্পিয়ন পাবেন ১ লাখ টাকা এবং রানার্সআপ পাবেন ৫০ হাজার টাকা। সেমিফাইনালিস্টরা প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা পাবেন, আর সর্বোচ্চ ৫০ বা তার বেশি ব্রেক করা খেলোয়াড় পাবেন বিশেষ পুরস্কার হিসেবে ২০ হাজার টাকা।
স্পনসর ও অংশীদার
এই ইভেন্টটি স্পনসর করছে অ্যাম্বার গ্রুপ, কো-স্পনসর হিসেবে রয়েছে এমিনেন্স সোর্সিং এবং রশিদ গ্রুপ। আরসি কোলা এবং এমইউএম পানীয় অংশীদার, এবং ইমপ্যাক্ট পিআর এই টুর্নামেন্টের মিডিয়া পার্টনার।
উদ্বোধনী বক্তব্য
ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি রুবেল আজিজ বলেন, "নিয়মিত এই ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে বাংলাদেশে কিউ স্পোর্টস আরও জনপ্রিয় হবে এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সঠিক প্ল্যাটফর্ম পাবেন। তবে স্নুকার টেবিল আমদানিতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৩.৫ ডলার ভ্যাট খেলাটির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। এই কর কমানো গেলে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব স্নুকার舞台上 নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সহজ হবে।"
বাংলাদেশ বিলিয়ার্ডস অ্যান্ড স্নুকার ফেডারেশনের সভাপতি শারকার মো. সামসুদ্দিন বলেন, "এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রস্তুত করা। আমরা আশা করি এই ধরনের ইভেন্ট ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক খেলোয়াড় তৈরি করতে সাহায্য করবে।"
টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ডা. মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, "এ বছরের শক্তিশালী অংশগ্রহণ বাংলাদেশে স্নুকারের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা তুলে ধরে। উদীয়মান প্রতিভার জন্য টেকসই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
অংশগ্রহণকারী ক্লাব
অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বোট ক্লাব লিমিটেড, বনানী ক্লাব লিমিটেড, ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, গুলশান ক্লাব লিমিটেড, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা, উত্তর ক্লাব লিমিটেড, চট্টগ্রাম ক্লাব, খুলনা ক্লাব লিমিটেড, বাংলাদেশ ক্লাব লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড, ক্লাব শাহীন লিমিটেড, লিজেন্ড ক্লাব লিমিটেড, কুমিল্লা ক্লাব লিমিটেড, অ্যারিনা বাই কিউস্পোর্টস একাডেমি, ক্যালিফোর্নিয়া পুল অ্যান্ড স্নুকার, লি রয়্যাল স্পোর্টস লিমিটেড, আরঅ্যান্ডবি বিলিয়ার্ড সেন্টার, স্পোর্ট এক্স বিলিয়ার্ডস, কিউঅ্যান্ডইউ বিলিয়ার্ড, ব্রেক অ্যান্ড বল, কিউ বিলিয়ার্ডস, জিমি’স বোলিং অ্যান্ড বিলিয়ার্ড, সিলনেট আইটি অ্যান্ড বিলিয়ার্ড জোন, ক্লাব নটরডেমিয়ানস বাংলাদেশ লিমিটেড, ন্যাস বিলিয়ার্ড একাডেমি, ব্রেকারস পুল অ্যান্ড স্নুকার, কুমিল্লা সিটি ক্লাব, কিউ স্পোর্টস হাব, কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ ক্লাব লিমিটেড, বাংলাদেশ বিলিয়ার্ড সেন্টার, বাংলাদেশ কিউ স্পোর্টস একাডেমি এবং ক্যাথলিক ক্লাব চট্টগ্রাম।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল ১৪ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।



