২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর পথে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের পর আর্জেন্টিনা দলে আবারও ফিরে এসেছে পুরোনো ‘মেসিডিপেন্ডেন্সিয়া’ সমস্যা। দলের আক্রমণভাগ প্রায় সম্পূর্ণভাবে লিওনেল মেসির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেসির ওপর ভরসা: আর্জেন্টিনার পুরোনো অভিশাপ
‘মেসিডিপেন্ডেন্সিয়া’ শব্দটি বহু আগে থেকেই বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে জড়িত। এর অর্থ হলো লিওনেল মেসি নামক খেলোয়াড়ের ওপর অতিরিক্ত ভরসা করা। অতীতে ডাবল বা ট্রিপল মার্কিং করে মেসিকে থামিয়ে দিলেই দল ভেঙে পড়ত। জাতীয় দলে সেই সময় পেছনে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে, সেই সময় আবার ফিরে এসেছে।
কেপ ভার্দে ম্যাচে মেসির ভূমিকা
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধের একমাত্র গোলটি এসেছিল মেসির পা থেকে। বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং ও ফিনিশিং—সবকিছুতেই ছিল তার ট্রেডমার্ক ছাপ। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দল গা ছেড়ে খেলতে শুরু করলে মূল সংকট বেরিয়ে আসে। মেসিকে ঘিরে তৈরি আক্রমণের বাইরে সৃজনশীলতার প্রায় অস্তিত্বই ছিল না দলে। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল ও এনজো ফার্নান্দেজ পরিশ্রম করলেও ম্যাচ বদলে দেওয়ার মতো কোনো মুহূর্ত তৈরি করতে পারেননি। লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজের মতো ফরোয়ার্ডরাও জ্বলে উঠতে পারেননি, কারণ তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করার দায়িত্ব মূলত মেসির ওপরই ছিল।
মেসি ছাড়া দলের অবস্থা
কেপ ভার্দে যখন একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়াচ্ছিল, তখন আর্জেন্টিনাকে বেশ কয়েকবার রক্ষা করেছেন মেসি নিজেই। লিসান্দ্রো মার্তিনেসের গোলে পরোক্ষ অবদান ছিল তার, আর কুতি রোমেরোর গোল তো সরাসরি তার পাস থেকেই এসেছে। এই পারফরম্যান্সে প্রশ্ন উঠছে, ৩০-এর কোঠার শেষ ধাপে থাকা মেসির ওপর এই মাত্রার নির্ভরতা কতটা টেকসই? একটি ক্লান্ত রাত বা সামান্য ইনজুরিই পুরো আক্রমণকে অচল করে দিতে পারে, যার আভাস এই ম্যাচেই মিলেছে অতিরিক্ত সময়ে, যখন প্রায় হারতে বসেছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
কোচ স্কালোনির চ্যালেঞ্জ
কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো নকআউটের কঠিন লড়াইগুলোর আগে একটি কার্যকর ‘প্ল্যান বি’ দাঁড় করানো, যেখানে মেসি ছাড়াও আক্রমণ সচল থাকবে। তবে মাঝমাঠ ও দুই ফরোয়ার্ডের একসঙ্গে ফর্ম হারিয়ে ফেলায় আর্জেন্টিনার সামনে সেই সুযোগ খুবই সামান্য। দলের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নিয়তি একটাই: মেসি আছেন তো আর্জেন্টিনা আছে, মেসি নেই তো আর্জেন্টিনাও নেই।
পরবর্তী ম্যাচ ও সম্ভাবনা
শেষ ১৬-এর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে লড়াই করার আগে স্কালোনিকে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যথায়, মেসির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্নে বড় ধাক্কা দিতে পারে। ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ঘটনাপ্রবাহে আর্জেন্টিনার পরবর্তী পদক্ষেপ দেখার জন্য পুরো বিশ্ব অপেক্ষায় রয়েছে।



