অরল্যান্ডো গিলের জীবন যেন এক নাটক। চার বছরের ব্যবধানে তিনি দেখেছেন নরক আর স্বর্গ। ২০২২ সালে তাঁর সন্তান লাওতারো দানিয়েলের জন্মের পর থেকে শুরু হয় তাঁর সংগ্রাম। জন্মগত রোগে ভুগছিল শিশুটি। পরিবারের খরচ ও চিকিৎসার বিল মেটাতে গিলকে বিক্রি করতে হয়েছিল প্রায় সবকিছু—জামা, জুতা, এমনকি ২০১৯ দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে পরা জাতীয় দলের জার্সিও।
গ্লাভস ছাড়া সবকিছু বিক্রি
ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘লা গাজেত্তা দেলো’ স্পোর্টের তথ্যমতে, গিল শুধু নিজের কিপিং গ্লাভসটি রেখেছিলেন। সেই গ্লাভস হাতে নিয়েই তিনি বোস্টনে প্যারাগুয়ের গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়েছিলেন জার্মানির বিপক্ষে শেষ ৩২ দলের রাউন্ডের ম্যাচে। ১২০ মিনিটে তিনি ৬টি সেভ করেন এবং টাইব্রেকারে আরও দুটি শট ঠেকিয়ে প্যারাগুয়েকে এনে দেন বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অঘটন।
মিডফিল্ডার থেকে গোলকিপার
সাড়ে ছয় ফুট উচ্চতার কারণে আর্জেন্টিনায় গিলকে ডাকা হয় ‘প্যারাগুয়ের কোর্তোয়া’ নামে। বেলজিয়ামের কিংবদন্তি থিবো কোর্তোয়ার মতো তিনিও ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মিডফিল্ডার হিসেবে। পরে সান লরেঞ্জোর বয়সভিত্তিক দলে গোলকিপিং শুরু করেন। প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি গোলকিপার হোসে লুইস চিলাভার্টের মতো ফ্রি-কিক নিতেন এবং ঘরোয়া ফুটবলে ফ্রি-কিক থেকে তাঁর চারটি গোল রয়েছে।
স্ত্রীর আবেগঘটিত পোস্ট
গিলের স্ত্রী মেলিসা বছরখানেক আগে সামাজিক মাধ্যমে জানান, ‘ছেলের জন্মের সময় আমাদের কিছুই ছিল না। অরল্যান্ডো তার পুরোনো ক্লাবের কাপড়, জুতা, এমনকি অনূর্ধ্ব-২০ দলের জার্সিও বিক্রি করে দিয়েছিল। পথ সহজ ছিল না, কিন্তু ভালোবাসা ও ত্যাগ থাকলে সবকিছু সম্ভব।’ গিল নিজে জার্মানির বিপক্ষে জয় উৎসর্গ করেন তাঁর অসুস্থ ভ্রাতুষ্পুত্রকে, যিনি হাসপাতালে ভর্তি।
চিলাভার্টের সমালোচনার জবাব
প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি চিলাভার্ট একবার বলেছিলেন, ‘গিল তো কথাই বলে না! মাঠে পুরো বোবা হয়ে খেলে। ফুটবল হলো যোগাযোগের খেলা।’ কিন্তু গিলের গ্লাভসই কথা বলেছে জার্মানির বিপক্ষে। টাইব্রেকারে জয়ের পর সতীর্থরা যখন তাকে জড়িয়ে ধরেন, গিলের মধ্যে কোনো বিকার ছিল না—শুধু শান্ত দৃঢ়তা।



