মেসির লাল কার্ড বিতর্ক: ভিএআর-এ দ্বৈত মানের অভিযোগ
মেসির লাল কার্ড বিতর্ক: ভিএআর-এ দ্বৈত মানের অভিযোগ

এবারের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি কেমন করছেন, সেটা সকলেরই জানা। গোলের পর গোল করে ভেঙেচুরে দিচ্ছেন রেকর্ড। ছন্দে থাকা মেসিকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন সতীর্থসহ সাবেক ফুটবলার ও কোচরা। তবে এবার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে নিয়ে আলোচনা মূলত বিতর্কিত এক ঘটনায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে লাল কার্ড দেখানোয় মেসির ঘটনা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। এমনকি রেফারিদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কি ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বালোগানের লাল কার্ড: কী ঘটেছিল?

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। সান ফ্রান্সিসকোর লেভিস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের ৬৪ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন বালোগান। বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচকে ট্যাকল করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তার পায়ে আঘাত করেন এই ফরোয়ার্ড। মাঠের ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস শুরুতে কোনো ফাউলের বাঁশি না বাজালেও, ভিএআর পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

মেসির ঘটনা: আলাদা মানদণ্ড?

মেসিকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছিল আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে। আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার মান্দিকে বুটের তলা উঁচিয়ে তার পায়ের পেছনের অংশ মাড়িয়ে দেন মেসি। আলজেরিয়ার খেলোয়াড়েরা তখন মেসিকে লাল কার্ড দেখানোর দাবি জানান। কিন্তু পোলিশ রেফারি সাইমন মার্চিনিয়াক ফাউলের বাঁশি বাজালেও মেসিকে কোনো কার্ড দেখাননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

বিবিসিতে ধারাভাষ্য দেওয়া ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড বলেন, ‘ঠিক এই জায়গাগুলোতে মানুষ ভিএআর নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সবাই নিয়মের একই প্রয়োগ দেখতে চায়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির সেই ট্যাকল আমাদের সবার মনে আছে। অনেকেরই ধারণা, ওটা সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল, অথচ সেটি ঠিকঠাক খতিয়ে দেখা হলো না, কোনো শাস্তিও দেওয়া হলো না। আর এখন বালোগানের ট্যাকলটা দেখুন-ভিএআর মাঝে নাক গলাল, রেফারি মনিটর দেখতে গেলেন এবং আচমকাই সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে দেওয়া হলো। এই যে আলাদা নিয়ম, এটাই খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি হতাশ করে।’

বিবিসির হয়ে ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় ইংল্যান্ড নারী ফুটবল দলের সাবেক স্ট্রাইকার সু স্মিথ বলেন, ‘রিপ্লে দেখার সময় ফ্রেমটা যখন আটকে রাখা হয়, তখন আপনার মনে হতেই পারে, এটা শতভাগ লাল কার্ড পাওয়ার মতোই অপরাধ। কিন্তু স্বাভাবিক গতিতে দেখলে সিদ্ধান্তটা বড্ড বেশির কঠোর মনে হবে।’ এসময় দুর্ভাগ্যবশত তার পা-টা ভুল জায়গায় পড়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন স্মিথ।

পচেত্তিনো ও ডেম্পসির সমালোচনা

বিশ্বকাপের ধারাভাষ্যকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসিও লাল কার্ডের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘মাঠের খেলা নিয়ে কথা বলার বদলে এখন আমাদের রেফারিদের নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে বড্ড বেশি শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ফ্লোরিয়ান বালোগান এমন কোনো অপরাধ করেনি, যার জন্য ওকে সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে হবে। এত বড় একটা ম্যাচে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনাকে শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে, যা পরে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও দাবি করেন, ‘এটা কখনোই লাল কার্ড হতে পারে না। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পা মাড়িয়ে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্যই ওর ছিল না।’

ভিএআর প্রটোকল নিয়ে প্রশ্ন

ফুটবল প্রেমীদের একাংশের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহারে যখন ফুটবলকে আরও নিখুঁত করার চেষ্টা করা হয়, তখন একই অপরাধের জন্য আলাদা আলাদা শাস্তি প্রদানের প্রবণতা সিস্টেমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে মেসির মতো বড় তারকার ক্ষেত্রে রেফারির নমনীয়তা এবং বালোগানের মতো উদীয়মান তারকার ক্ষেত্রে কঠোরতা, সমর্থকদের মনে এই ধারণার জন্ম দিয়েছে যে রেফারিংয়ের মানদণ্ড হয়তো খেলোয়াড়ভেদে পরিবর্তিত হচ্ছে। শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ম্যাচে বালোগানকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে পচেত্তিনোর দলকে। এই সিদ্ধান্তটি কেবল একটি লাল কার্ডের বিতর্ক নয়, বরং বিশ্বকাপের ভিএআর প্রটোকল নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিয়েছে।