বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে চ্যালেঞ্জ: জয়হীন রেকর্ড ভাঙার লড়াই
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে চ্যালেঞ্জ

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে এবার এক ভিন্ন পরীক্ষা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়ে— যে দলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একবারও জয়ের দেখা পায়নি সেলেসাওরা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাওয়া দুই দলের লড়াইয়ে তাই ইতিহাস, পরিসংখ্যান ও বর্তমান ফর্ম সবকিছুই ছড়াচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা।

পরিসংখ্যানে নরওয়ের আধিপত্য

এ পর্যন্ত দুই দল চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে নরওয়ে, আর বাকি দুটি ড্র হয়েছে। দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ ১৯৮৮ সালের একটি প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে শেষ হয়। এরপর ১৯৯৭ সালের আরেকটি প্রীতি ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখায় নরওয়ে।

দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াই হয় ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অব ষোলো নিশ্চিত করেছিল নরওয়ে। ওই ম্যাচে শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করেছিলেন কিয়েতিল রেকদাল। ব্রাজিলের বিপক্ষে সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর ২০০৬ সালে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচেও দুই দল ১-১ গোলে ড্র করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্রাজিলের বর্তমান শক্তি ও আশা

অতীতের পরিসংখ্যান ব্রাজিলের বিপক্ষে থাকলেও বর্তমান দল নিয়ে আশাবাদী কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাতিয়াস কুনহা, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও নেইমারকে ঘিরে গড়া আক্রমণভাগ যেকোনো প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করতে সক্ষম। জাপানের বিপক্ষে জয়ও দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

নরওয়ের হলান্ড-নির্ভর আক্রমণ

অন্যদিকে, আর্লিং হলান্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নরওয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে। আইভরি কোস্টকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন হলান্ড। ফলে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটি এবারও ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ড ধরে রাখতে চায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের জয়হীনতার রেকর্ড ভেঙে ব্রাজিল কি শেষ আটে জায়গা করে নিতে পারে, নাকি নরওয়ে আবারও চমক দেখিয়ে নিজেদের ঐতিহাসিক আধিপত্য বজায় রাখে। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন সেই লড়াইয়ের দিকেই। সব মিলিয়ে ৫ জুলাইয়ের এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই।