বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে এখন মাত্র তিন মাস বাকি থাকলেও, ইরান জাতীয় ফুটবল দলের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরানের পাল্টা জবাব এই সংকটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বিশ্বকাপের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন দ্বিতীয় সপ্তাহ পার করছে। এই সংঘাত এখন আর শুধু আঞ্চলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব বৈশ্বিক স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, অপেক্ষমাণ বিশ্বকাপ ফুটবলও এই প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া এই আসরের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা দায়িত্ব পালন করবে, যা ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
ট্রাম্পের পরামর্শ ও ইরানের জবাব
বিশ্বকাপে ইরানের খেলা না–খেলা নিয়ে একাধিক বক্তব্য সামনে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর, ইরান যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। প্রতিক্রিয়ায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি ইরানের বিশ্বকাপে খেলা না–খেলার বিষয়টিকে পাত্তা দিচ্ছেন না। তবে, পরে ট্রাম্প ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন, যা ইরানকে ক্ষুব্ধ করেছে।
ইরান জাতীয় ফুটবল দলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ কোনো ব্যক্তি বা দেশের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে না। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের নিরাপত্তাব্যবস্থার সমালোচনা করা হয়েছে এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে ফিফা এই টুর্নামেন্টের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইরান দাবি করেছে যে তাদের সাহসী ফুটবলারদের শক্তির কারণে তারা বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং কেউ তাদের বাদ দিতে পারবে না।
ফিফার ভূমিকা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছেন যে ইরানকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে স্বাগত জানাতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে ফিফা তাদের কাছ থেকে বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব কেড়ে নিতে পারে। এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে, যেমন তিন বছর আগে ইন্দোনেশিয়া পুরুষদের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে ইসরায়েল ফুটবল দলকে স্বাগত জানাতে অস্বীকৃতি জানালে, ফিফা আয়োজক স্বত্ব বাতিল করে টুর্নামেন্টটি আর্জেন্টিনায় সরিয়ে নেয়।
ইরানের বিশ্বকাপ সূচি ও ভবিষ্যৎ
সূচি অনুযায়ী, ইরান আগামী ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এরপর ২১ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে। এই অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, ইরান তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, যা বিশ্বকাপের আগে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে।



