উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের নক আউট পর্বের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড ২-১ গোলে ডি আর কঙ্গোকে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে দারুণ এক জয় পেয়েছে থ্রি লায়নরা।
শুরুতেই পিছিয়ে পড়া
আটলান্টার মাঠে ম্যাচের শুরুতে ইংল্যান্ড সুবিধা করতে পারেনি। ৭ মিনিটে অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার অ্যাসিস্টে ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে ব্রায়ান সিপেঙ্গা দারুণ এক ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। জালের একেবারে নিচের বাঁ দিকের কোনায় আশ্রয় নেয় বল। গোলকিপার বলের লাইনে ঝাঁপালেও কিছুই করতে পারেননি।
ইংল্যান্ডের মরিয়া চেষ্টা
পিছিয়ে থেকে ইংল্যান্ড মরিয়া হয়ে ওঠে গোল শোধের জন্য। একের পর এক আক্রমণের ঢেউ গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ৩০ মিনিটে জুড বেলিংহামের দারুণ এক সুযোগ হাতছাড়া হলো। ক্রস থেকে এই ইংলিশ মিডফিল্ডার হেড করলেও ডিআর কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসি চোখের পলকে অতিমানবীয় রিফ্লেক্স দেখিয়ে বলটি জালে জড়াতে দেননি।
৫ মিনিট পর এবার দুর্ভাগ্য বাধা হয়ে দাঁড়াল মার্কাস রাশফোর্ডের সামনে। ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়েই প্রথম স্পর্শে গোল অভিমুখে জোরালো শট নিয়েছিলেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। কিন্তু কঙ্গোর এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বলটি দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্লক হয়ে যায়।
কঙ্গোর সুযোগ ও বিতর্ক
৪২ মিনিটে কঙ্গোর সামনেও সুযোগ এসেছিল ব্যবধান বাড়ানোর। বিসাকার পাসে ইওয়ান উইসার প্রথম ছোঁয়ার শটটি পোস্টের একদম কোনায় লেগে ফিরে আসে। বেঁচে যায় ইংল্যান্ড। দুই মিনিট পর উত্তেজনা ছড়ায় মাঠে। হ্যারি কেইনকে বক্সের ভেতরে আটকাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসি। দুজনের এই মুখোমুখি লড়াইয়ে বক্সে পড়ে যান ইংলিশ অধিনায়ক। রেফারি ভিএআর দেখে পেনাল্টির নির্দেশ দেননি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও বেঁচে যায় কঙ্গো। আবারও বেলিংহামকে হতাশ করলেন কঙ্গোর গোলকিপার! ডান দিক থেকে ভেসে আসা চমৎকার এক ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল নিচের দিকে নামিয়ে পোস্টের দিকে পাঠিয়েছিলেন জুড বেলিংহাম। এবারও দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে বলটি একদম বাঁ দিকের নিচের কোনা থেকে বাইরে ঠেলে দিলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের প্রত্যাবর্তন
বিরতির পর ইংল্যান্ডের আক্রমণের ঝড় চলতে থাকে। ৫৪ মিনিটে আবারও দুর্দান্ত এক সেভে ইংল্যান্ডকে গোল পেতে দেননি কঙ্গোর গোলকিপার এমপাসি। জুড বেলিংহামের শট কঙ্গোর এক খেলোয়াড়ের শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে ঢুকে যাচ্ছিল জালে। এমপাসি দুর্দান্তভাবেই তা আটকে দেন।
অবশেষে কঙ্গোর রক্ষণ ভাঙতে পারলো ইংল্যান্ড। ভাঙলেন হ্যারি কেইন। ৭৫ মিনিটে গর্ডনের লবে জায়গা তৈরি করে নিয়ে দারুণ হেডে জালে জড়িয়েছেন তিনি। জালে যাওয়ার আগে বল অবশ্য ডিআর কঙ্গো গোলকিপার এমপাসির হাতে লেগেছিল। তবে তাতে কাজ হয়নি।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের মতো হ্যারি কেইনেরও বিশ্বকাপ গোল এখন ১২টি। ৮৭ মিনিটে ইংল্যান্ড জয়সূচক গোল পায়। বক্সে ঢুকে কেইন ডান পায়ের দারুণ গতির শটে জাল কাঁপান। এতেই নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের পরবর্তি রাউন্ড।
কেইনের নতুন রেকর্ড ও পরবর্তী ম্যাচ
এই গোলে বিশ্বকাপে গোলসংখ্যায় পেলেকে ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। কেইনের মোট গোল এখন ১৩টি। এবারের আসরে পাঁচটি। আগামী ৫ জুলাই মেক্সিকোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইংলিশরা।



