বিতর্কিত পেনাল্টি: সেনেগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে বেলজিয়ামের জয়
বিতর্কিত পেনাল্টিতে সেনেগালের স্বপ্নভঙ্গ

বেলজিয়াম-সেনেগাল বিশ্বকাপ ম্যাচের ফলাফলের চেয়ে এখন বড় আলোচনা রেফারির বিতর্কিত পেনাল্টি সিদ্ধান্তকে ঘিরে। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ প্রান্তে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সেনেগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দেয়।

ঘটনার বিবরণ

ম্যাচের ১২৫তম মিনিটে সেনেগালের মিডফিল্ডার লামিন কামারা নিজেদের বক্সে একটি নিচু ক্রস বিপদমুক্ত করতে স্লাইড করেন। তাঁর ডান পায়ের ট্যাকলটি বেলজিয়াম মিডফিল্ডার ইউরি টিলেমান্সের বাঁ পায়ে লাগে কি না, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। মাঠের রেফারি সাইদ মার্তিনেজ প্রথমে খেলা চালিয়ে যান। কিন্তু বল মাঠের বাইরে চলে গেলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন।

ভিএআর সিদ্ধান্ত

ভিএআরের পরামর্শে রেফারি মার্তিনেজ মাঠের পাশের মনিটর দেখতে যান। ইতিমধ্যে টিলেমান্স নিশ্চিত হয়ে পেনাল্টি স্পটের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। কয়েকবার রিপ্লে দেখে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন সেনেগালের খেলোয়াড়েরা। তাদের মনে পড়ে যায় গত জানুয়ারির আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ফাইনালের ঘটনা, যেখানে একই ধরনের বিতর্কিত পেনাল্টির জেরে সেনেগালের শিরোপা কেড়ে নিয়ে মরক্কোকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া

ম্যাচ শেষে সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও বলেন, ‘আমাদের মনে হয়েছিল ওটা কোনোভাবেই পেনাল্টি ছিল না। খেলোয়াড়েরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছে, এটা তাদের অধিকার।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এরপর পেনাল্টি শটটি নেওয়া হলো—আর এ কারণেই আমরা টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলাম।’ ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিলের মতে, পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। আয়ারল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি রয় কিন বলেন, ‘পেনাল্টির সিদ্ধান্তটা একটু বেশিই কঠোর হয়ে গেছে, আর রেফারিও মনিটর দেখতে বেশি সময় নিয়েছেন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পেনাল্টির ব্যাখ্যা

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্পোর্টিং নিউজ’ পেনাল্টির পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, কামারার স্লাইডিং চ্যালেঞ্জ টিলেমান্সের পায়ের পাশে আঘাত করায় তিনি ছিটকে যান। ওভারহেড ক্যামেরার রিপ্লেতে এটি স্পষ্ট হয়। ভিএআর থেকে রেফারিকে মনিটর দেখার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং তিনি ভিডিও সহকারীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হন।

পেনাল্টি থেকে টিলেমান্সের গোলে বেলজিয়াম ৩-২ গোলে জিতে শেষ ষোলোতে উঠেছে। সেনেগাল ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও হেরে যায়। কোচ থিয়াও বলেন, ‘ম্যাচটি আমাদের মুঠোতেই ছিল। কিন্তু ফুটবল ম্যাচ তো আর ৮৫ মিনিটের হয় না।’