নখ একটু বড় হলেই ভেঙে যাওয়া বা খসে পড়ার সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টির ঘাটতি, অতিরিক্ত পানি ও ডিটারজেন্টের সংস্পর্শ, রাসায়নিকযুক্ত নেইল প্রোডাক্টের ব্যবহার এবং শুষ্কতার কারণে নখ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তবে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কার্যকর একটি ঘরোয়া উপাদান হতে পারে চাল ধোয়া পানি বা রাইস ওয়াটার।
রাইস ওয়াটারের পুষ্টিগুণ
রূপচর্চা বিশেষজ্ঞদের মতে, চালের পানিতে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি ও ই, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট নখের পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে নখের আর্দ্রতা বজায় থাকে, ভঙ্গুরতা কমে এবং নখ আরও শক্ত ও স্বাস্থ্যবান হতে পারে। একই সঙ্গে নখের চারপাশের ত্বকও কোমল থাকে।
রাইস ওয়াটার তৈরির পদ্ধতি
রাইস ওয়াটার তৈরি করতে আধা কাপ চাল ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে প্রায় ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর সেই পানি ছেঁকে আলাদা করে সংরক্ষণ করুন। চাইলে হালকা ফারমেন্টেড চালের পানিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্যবহারের নিয়ম
ব্যবহারের জন্য একটি পাত্রে রাইস ওয়াটার নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট নখ ডুবিয়ে রাখুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার বা কিউটিকল অয়েল লাগিয়ে নিন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এভাবে ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে নখের গঠন উন্নত হতে পারে। চাইলে এতে কয়েক ফোঁটা ভিটামিন-ই অয়েল বা অ্যালোভেরা জেলও মেশানো যায়।
খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য টিপস
তবে শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা নয়, নখ সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, বায়োটিন, আয়রন, জিঙ্ক ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত অ্যাসিটোনযুক্ত নেইল পলিশ রিমুভার ব্যবহার এড়িয়ে চলা, পরিষ্কারের কাজের সময় গ্লাভস পরা এবং নিয়মিত হাত-নখ ময়েশ্চারাইজ করার অভ্যাসও নখের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। তবে দীর্ঘদিন নখের রং পরিবর্তন, ব্যথা বা ফাঙ্গাল সংক্রমণ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



