পুষ্টিগুণ ও স্বাদে সমৃদ্ধ বাঁধাকপি অনেকেরই প্রিয় সবজি। তবে এই সবজি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট অনলি মাই হেলথ-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত বাঁধাকপি খাওয়া হজমের সমস্যা থেকে শুরু করে থাইরয়েডজনিত জটিলতার কারণ হতে পারে।
হজমের ওপর প্রভাব
বাঁধাকপিতে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত ফাইবার গ্রহণের ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস ও ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের শরীর উচ্চমাত্রার ফাইবার গ্রহণে অভ্যস্ত নয়, তাদের হজমতন্ত্রে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা পেটের সংবেদনশীলতায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত বাঁধাকপি আরও বেশি অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রক্তে শর্করার মাত্রা
বাঁধাকপিতে থাকা গ্লুকোসিনোলেটস নামক উপাদান শরীরে ভেঙে এমন কিছু পদার্থ তৈরি করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত খেলে কিছু মানুষের রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে যেতে পারে। এতে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও ঝিমঝিম ভাব দেখা দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণকারীদের অতিরিক্ত বাঁধাকপি না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খাদ্যতালিকায় বাঁধাকপির পরিমাণ বাড়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
থাইরয়েডের কার্যকারিতায় প্রভাব
বাঁধাকপিসহ ক্রুসিফেরাস জাতীয় সবজিতে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা থাইরয়েডের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাঁধাকপি শরীরে আয়োডিন ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
খনিজ শোষণে বাধা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঁধাকপিতে থাকা কিছু যৌগ হজমতন্ত্রে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের মতো খনিজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলোর শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সীমিত হলেও যাদের খনিজ ঘাটতি রয়েছে, তাদের সুষম খাদ্য গ্রহণে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সূত্র: সামা টিভি লাইফস্টাইল



