যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্কের (টিজেএন) প্রকাশিত ফিন্যান্সিয়াল সিক্রেসি ইনডেক্স (এফএসআই) ২০২৬-এ বাংলাদেশের অবস্থান আরও পিছিয়েছে। সূচকটি দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা পরিমাপ করে এবং এবার বাংলাদেশ ৪৭তম স্থানে রয়েছে, যা গত বছরের ৫০তম স্থান থেকে তিন ধাপের অবনতি।
বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান
২০২৬ সূচকে বাংলাদেশের মোট স্কোর ২০৮, যা আর্থিক গোপনীয়তা বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রণ শিথিলতার ইঙ্গিত দেয়। এই সূচকটি দেশগুলোর আইন ও আর্থিক ব্যবস্থা কতটা ব্যক্তি ও কর্পোরেশনকে অর্থ লুকাতে সহায়তা করে, তা মূল্যায়ন করে।
বাংলাদেশের বিপরীতে, প্রতিবেশী ভারত এক ধাপ উন্নতি করে ২৫তম স্থানে রয়েছে। পাকিস্তানও আগের বছরের তুলনায় অগ্রগতি দেখিয়েছে, অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় আর্থিক গোপনীয়তা বেড়েছে।
বৈশ্বিক চিত্র
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক গোপনীয়তা প্রদানকারী দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
বাংলাদেশের দুর্বলতা
টিজেএন প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামোর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে যা কর ফাঁকি ও মূলধন পাচার সহজ করে।
- লুকানো কর্পোরেট মালিকানা: কোম্পানি ও ট্রাস্টের প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে শক্তিশালী গোপনীয়তা বিধান রয়েছে, যা ব্যক্তিদের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সম্পদ আড়াল করতে দেয়।
- দুর্বল এলএলপি স্বচ্ছতা: সীমিত দায়বদ্ধতা অংশীদারি (এলএলপি) পরিচালনাকারী স্বচ্ছতা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- কর্পোরেট ও রিয়েল এস্টেট ফাঁকি: কর্পোরেট বার্ষিক হিসাব, বিদেশি বিনিয়োগ আয় এবং কর সম্মতির চারপাশে উচ্চ মাত্রার গোপনীয়তা রয়েছে। এছাড়াও, রিয়েল এস্টেট খাতে মালিকানার বিবরণ লুকানোর সহজতা অবৈধ তহবিলের মাধ্যমে সম্পদ লন্ড্রির ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
ইতিবাচক দিক
সামগ্রিক অবনতি সত্ত্বেও, প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানি লন্ডারিং বিরোধী নীতি এবং সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। কর রায় এবং খনিজ খাতের চুক্তির স্বচ্ছতার ক্ষেত্রেও কর্মক্ষমতা স্থিতিশীল ছিল।
অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই ফলাফল বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। প্রকৃত মালিকদের সম্পর্কে স্বচ্ছতার অভাব সরাসরি কর ফাঁকি সহজ করে, যা সরকারি রাজস্ব থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল বঞ্চিত করে। এই তহবিল জনসাধারণের পরিকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করা যেত।
প্রয়োজনীয় সংস্কার
প্রতিবেদনে উপসংহারে বলা হয়েছে যে কর্পোরেট জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে, অবৈধ মূলধন পাচার রোধ করতে এবং বিশ্ব মঞ্চে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার সততা পুনরুদ্ধার করতে জরুরি আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাধ্যতামূলক।



