প্রচণ্ড গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ব্যবহার বাড়ছে। তবে বিদ্যুৎ বিলের কথা ভেবে অনেকেই দীর্ঘসময় এসি বন্ধ করে রাখেন। অনেকেই মনে করেন, রিমোটের পাওয়ার অফ বোতাম চাপলেই এসি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এতটা সহজ নয়।
স্ট্যান্ডবাই মোডে বিদ্যুৎ খরচ
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিমোট দিয়ে এসি বন্ধ করার পর বেশিরভাগ ইউনিট পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। এটি স্ট্যান্ডবাই মোডে চলে যায়। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ খরচ খুবই কম হলেও দীর্ঘ সময় ধরে সেটি চলতে থাকলে মাস শেষে মোট খরচ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।
কেন স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকে এসি?
আধুনিক এসিতে বিভিন্ন স্মার্ট ফিচার থাকে। যেমন- রিমোটের সিগন্যাল গ্রহণ, মেমোরি ধরে রাখা, টাইমার চালু রাখা বা দ্রুত পুনরায় চালু হওয়ার প্রস্তুতি। এসব কারণে এসি পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় থাকে এবং সামান্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।
কীভাবে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমবে?
এসি দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করলে শুধু রিমোট দিয়ে বন্ধ না করে সুইচ বোর্ডের মেইন সুইচও বন্ধ করে দিতে পারেন। এতে স্ট্যান্ডবাই বিদ্যুৎ খরচও বন্ধ হয়ে যাবে। তবে যদি কিছুক্ষণ পর আবার এসি চালানোর পরিকল্পনা থাকে, তাহলে বারবার মেইন সুইচ বন্ধ-চালু করার প্রয়োজন নেই।
নিরাপত্তার দিকেও নজর দিন
বজ্রপাত, ভোল্টেজ ওঠানামা বা দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকলে এসির মেইন সুইচ বন্ধ রাখা নিরাপদ। এতে বৈদ্যুতিক ঝুঁকি কমে এবং যন্ত্রের সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়।
রিমোট দিয়ে এসি বন্ধ করার পর সাধারণভাবে কম্প্রেসার বা আউটডোর ইউনিট ক্রমাগত চলতে থাকে না। তবে স্ট্যান্ডবাই মোডে অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় এসি ব্যবহার না করলে মেইন সুইচ বন্ধ রাখার অভ্যাস করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় কমানো সম্ভব। পাশাপাশি যন্ত্রের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
শুধু এসি নয়, অন্যান্য যন্ত্রের ক্ষেত্রেও সতর্কতা
বিদ্যুৎ খরচ কমাতে হলে অবশ্যই সুইচের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুধু এসিই নয়, সিলিং ফ্যান, টেলিভিশন, কুকার ব্যবহারের পর অবশ্যই সুইচ বন্ধ করে রাখবেন। মোবাইল ফোন চার্জ করার পর অবশ্যই চার্জার সকেট থেকে খুলে রাখবেন।



