টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌযান চলাচল বন্ধের ষষ্ঠ দিন
টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌযান চলাচল বন্ধের ষষ্ঠ দিন

টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌরুটে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল টানা ছয়দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও সাগরে উত্তাল অবস্থার কারণে গত ২ জুলাই থেকে এই পথে নৌযান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে, যা মঙ্গলবার সকালেও বহাল রয়েছে। এর ফলে দ্বীপবাসীর দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নৌযান চলাচল বন্ধের কারণ

সেন্ট মার্টিন সার্ভিস ট্রলার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, এই রুটে মোট ২৬টি যাত্রীবাহী ট্রলার রয়েছে, যার মধ্যে প্রতিদিন ঘূর্ণায়মান ভিত্তিতে দুই থেকে তিনটি ট্রলার চলাচল করে। তবে আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত কার্যকর থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাগর এখনও উত্তাল থাকায় আগামী কয়েকদিনেও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

দ্বীপবাসীর দুর্ভোগ ও খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিন মূল ভূখণ্ড টেকনাফের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের একমাত্র মাধ্যম এই নৌপথ। দীর্ঘদিন চলাচল বন্ধ থাকলে দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা স্থানীয়দের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার থেকে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রতিবছর জুন-জুলাই মাসে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দ্বীপের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। যদি আরও কয়েকদিন এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে, দ্বীপে পর্যটকদের জন্যও এই নৌরুট বন্ধের প্রভাব পড়েছে। সেন্ট মার্টিন দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হলেও বর্তমানে সেখানে যাওয়ার কোনো বিকল্প পথ নেই। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটক আসা বন্ধ হওয়ায় তাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েকদিন সাগর উত্তাল থাকতে পারে। ফলে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আবহাওয়া উন্নতি হলেই নৌযান চলাচল চালু করার কথা জানিয়েছে।