প্রক্রিয়াজাত খাবারেই লুকিয়ে বিপদ, জেনে নিন কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন
প্রক্রিয়াজাত খাবারে বিপদ, জেনে নিন কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন

দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ততার কারণে এখন অনেকেই প্যাকেটজাত ও প্রস্তুত খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। বাজারে ‘স্বাস্থ্যকর’ লেখা মোড়কে নানা ধরনের খাবারও সহজেই পাওয়া যায়। কিন্তু সব স্বাস্থ্যকর দেখানো খাবার যে সত্যিই শরীরের জন্য ভালো, এমন নয়। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

খাবারের চার ভাগ

ব্রাজিলের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা খাবারের প্রক্রিয়াকরণের মাত্রা অনুযায়ী চারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। প্রথম ভাগে রয়েছে অপ্রক্রিয়াজাত বা খুব কম প্রক্রিয়াজাত খাবার। যেমন— টাটকা ফল, শাকসবজি, ওটস, বাদাম, মাছ, ডিম ও টাটকা মাংস। এগুলো পুষ্টিকর এবং শরীরের জন্য উপকারী।

দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে রান্নার কাজে ব্যবহৃত তেল, মাখন, চিনি ও লবণ। তৃতীয় ভাগে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত খাবার। যেমন— টিনজাত মাছ, টিনজাত সবজি ও পাউরুটি। এসব খাবারে কিছু পরিমাণে তেল, লবণ বা অন্যান্য উপাদান যোগ করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চতুর্থ ভাগটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে রয়েছে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার। যেমন— বার্গার, প্যাকেটজাত নাশতা, চিপস, সসেজ, বিভিন্ন কোমল পানীয়সহ এমন সব খাবার, যেগুলো তৈরির সময় অতিরিক্ত চিনি, লবণ, কৃত্রিম রং, গন্ধ ও রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়।

স্বাস্থ্যকর ভেবে যে খাবারগুলো খাচ্ছেন

চিকিৎসকদের মতে, অনেক খাবার বাইরে থেকে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও সেগুলো অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম স্বাদযুক্ত ওটস, বিভিন্ন স্বাদের দই, প্যাকেটজাত মাংস, সসেজ, বেকন এবং অনেক ধরনের সকালের সিরিয়াল। এসব খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা কৃত্রিম উপাদান মেশানো থাকে।

কেন সতর্ক থাকবেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খেলে স্থূলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি ও যকৃতের বিভিন্ন সমস্যার আশঙ্কাও বাড়তে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কী খাওয়া ভালো

চিকিৎসকদের পরামর্শ, যতটা সম্ভব টাটকা ও ঘরে তৈরি খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ভাত, রুটি, মাছ, ডিম, টাটকা মাংস, ফলের রস, লাচ্ছি বা ঘোলের মতো খাবার রাখুন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবারই হতে পারে সবচেয়ে ভালো বিকল্প।