কাঁঠাল শুধু সুস্বাদু ফল নয়, এর বিচিও পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং নানা রান্নায় জনপ্রিয়। শুঁটকি দিয়ে কাঁঠালের বিচি ভুনা, মাংসের সঙ্গে রান্না বা সবজির পদে এটি আলাদা স্বাদ যোগ করে। তবে মৌসুম শেষে অনেকেই এই বিচি আর খেতে পারেন না। সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করলে বছরের অনেকটা সময় কাঁঠালের বিচি ব্যবহার করা সম্ভব। নিচে তিনটি কার্যকর পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো।
রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ
প্রথমে কাঁঠালের বিচি ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। একটি ট্রেতে ছড়িয়ে দুই দিন ভালো রোদে শুকিয়ে নিন। শুকানো বিচিগুলো ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় শীতল ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। এভাবে রাখলে বিচি প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে।
সেদ্ধ করে ফ্রিজে সংরক্ষণ
বিচিগুলো ভালোভাবে ধুয়ে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে বাইরের সাদা খোসা ছাড়িয়ে ফেলুন। ভেতরের লালচে খোসা না ছাড়ালেও চলে। শুঁটকি দিয়ে রান্না করতে চাইলে বিচিগুলো মাঝখান থেকে দুই টুকরো করে নিতে পারেন। চাইলে আস্ত বা কুচি করেও সংরক্ষণ করা যায়।
এরপর একটি পাত্রে পানি ফুটিয়ে খোসা ছাড়ানো বিচিগুলো ৫ মিনিট সেদ্ধ করুন। চাইলে সেদ্ধ করার পর লালচে খোসাটিও ছাড়িয়ে নিতে পারেন। পানি সম্পূর্ণ ঝরিয়ে বিচিগুলো একটি জিপলক ব্যাগ বা বায়ুরোধী পাত্রে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। এভাবে রাখলে প্রায় ৪ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
গুঁড়া করে সংরক্ষণ
প্রথমে রোদে শুকানো বিচিগুলো সেদ্ধ করে ঠান্ডা করুন। খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরো করে কেটে নিন। একটি শুকনো তাওয়ায় অল্প থেকে মাঝারি আঁচে তেল ছাড়া বিচিগুলো ভেজে নিন। ভালোভাবে ভাজা হলে ঠান্ডা করে গ্রাইন্ডারে মিহি গুঁড়া তৈরি করুন। গুঁড়া একটি পরিষ্কার, শুকনো ও বায়ুরোধী পাত্রে ভরে শীতল ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। এভাবে কাঁঠালের বিচির গুঁড়া প্রায় ৬ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ করলে কাঁঠালের বিচি দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে। মৌসুমে কিছু সময় নিয়ে বিচি সংরক্ষণ করে রাখলে সারা বছর বিভিন্ন পদে এর স্বাদ উপভোগ করা যায়।



