স্মৃতির সরণিতে আজও জীবন্ত রাজা টংকনাথ
স্মৃতির সরণিতে আজও জীবন্ত রাজা টংকনাথ

জনশ্রুতি বলে, কুলিক নদীর তীরে গড়ে ওঠা সেই প্রাসাদের প্রতিটি ইট আজও কথা বলে। রাজা নেই, রাজপাট চুকেছে কবেই— কিন্তু দেশের উত্তর জনপদের জনমানসে আজও অমলিন রাজা টংকনাথ চৌধুরীর নাম। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় রাজা টংকনাথের একটি পুরোনো ছবি ভাইরাল হতেই ফের চর্চায় উঠে এসেছে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈলের এই প্রাচীন জমিদারি ঐতিহ্য।

ইতিহাসের সাক্ষী রাজবাড়ি

রাণীশংকৈলের এই রাজবাড়িটি নিছক কোনো অট্টালিকা নয়, বরং এটি একটি আস্ত ইতিহাসের দলিল। স্থানীয় ইতিহাস ও সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বুদ্ধিনাথ চৌধুরীর তিন পুত্র ছিলেন— রামনাথ, টংকনাথ এবং গৌরনাথ। ভাগ্যের এমনই পরিহাস যে, বড় ভাই রামনাথের অকাল মৃত্যু এবং ছোট ভাই গৌরনাথের মানসিক অক্ষমতার কারণে গোটা জমিদারি পরিচালনার ভার এসে পড়ে মেজো ছেলে টংকনাথের কাঁধে। চতুর ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে অল্পদিনেই তিনি নিজেকে জমিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। কথিত আছে, তার আমলেই এ অঞ্চলের বৈভব চূড়ায় পৌঁছেছিল।

ধ্বংসের মুখে ঐতিহ্য

বিশাল এই রাজবাড়িটি এখন ধ্বংসাবশেষের মূর্ত প্রতীক। আগাছা আর শ্যাওলা মাখানো দেওয়ালগুলো যেন এক দীর্ঘশ্বাসের সাক্ষী। কুলিক নদীরপাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাসাদের কারুকাজ আজও পথচারীদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে। ফেসবুকের পাতায় নেটিজেনরা এই ছবির তলায় যেমন নস্টালজিয়ায় ভেসেছেন, তেমনই আক্ষেপ করেছেন সংরক্ষণের অভাব নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, এই রাজবাড়িটি কেবল রাণীশংকৈলের নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের এক অমূল্য সম্পদ; কিন্তু সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে ছাদ, খসে পড়ছে পলেস্তারা। সমাজমাধ্যমে রাজার ছবিটি নতুন করে ভাইরাল হওয়ায় এলাকার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কতদিন এই কঙ্কালসার কাঠামোটি টিকে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশিষ্ট শিক্ষা অনুরাগী রাণীশংকৈল ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, রাজারা তো চলে যান, কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া কীর্তিই তো অঞ্চলের পরিচয়। টংকনাথ চৌধুরীর এই বাড়িটি রাণীশংকৈলের গর্ব, একে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের কর্তব্য।

স্মৃতিটুকু সম্বল করেই দিন কাটছে এই প্রাচীন ভিটের। রাজা টংকনাথের ছবি এখন স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ঘুরপাক খাচ্ছে বটে, কিন্তু বাস্তবে তার স্মৃতিসৌধটি কতদিন কালের প্রহর গুনবে, তার উত্তর সময়ের গর্ভেই লুকিয়ে।