কুষ্টিয়া বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ১৫ মে বিকেলে প্রথম আলো কুষ্টিয়া অফিসের বন্ধুসভার কক্ষে এই আসর অনুষ্ঠিত হয়।
পাঠচক্রের সঞ্চালনা ও আলোচনা
সাধারণ সম্পাদক সিহাব উদ্দিনের সঞ্চালনায় পাঠ আলোচনায় সহসভাপতি জোবাইদা ইয়াসমিন বলেন, উপন্যাসটি তিন খণ্ডে বিভক্ত—বল্লালী বালাই, আম-আঁটির ভেঁপু ও অক্রুর সংবাদ। প্রথম খণ্ডে কৌলীন্য প্রথার করুণ পরিণতির কথা বলা হয়েছে, যার শিকার হন ইন্দিরা ঠাকুরন। দ্বিতীয় খণ্ডে অপু ও দুর্গার শৈশব এবং প্রকৃতির সঙ্গে তাদের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরা হয়; দুর্গার করুণ মৃত্যু ও তার শেষ ইচ্ছা নিয়ে এই খণ্ড সমাপ্ত হয়। তৃতীয় খণ্ডে অপুদের নিশ্চিন্তিপুর গ্রাম ছেড়ে ভালো জীবনের আশায় কাশীযাত্রা ও সেখানকার পরবর্তী জীবন আলোচনা করা হয়।
চরিত্র ও বাস্তবতা
বন্ধু শুভ আহমেদ ইন্দিরা ঠাকুরনের করুণ পরিণতি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, একসময় কন্যাহারা, স্বামীহারা, নিঃস্ব সর্বজায়া অনুভব করেন। ইন্দিরা ঠাকুরনের সঙ্গে তাঁর ব্যবহার এবং তৎকালীন পরিস্থিতি উপলব্ধি করে তিনি কষ্ট পান। বস্তুত মানুষ যতক্ষণ না সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, ততক্ষণ প্রকৃতপক্ষে সে অপরের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে না।
সভাপতি জসিম উদ্দীন অপু চরিত্রের সঙ্গে আমাদের শৈশবের মিল উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতির সঙ্গে একটা দরিদ্র পরিবারে শিশু-কিশোর যেভাবে বেড়ে উঠেছে, তা বিভূতিভূষণ এই উপন্যাসে যথাযথ উপস্থাপন করেছেন। ১৯২৯ সালের চিরায়ত বাংলা চিত্র অতি পুরোনো নয়, বরং সেদিনকার গল্প, যা বাংলা সাহিত্যে হাজার বছর বেঁচে থাকবে। উপন্যাসের চরিত্রগুলো আমাদের মধ্যকার বাস্তব চিত্র, যা কখনো পুরোনো হবে না।’
অন্যান্য উপস্থিতি
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক রাসেল প্রমাণিক ও বন্ধু আল আমিনসহ অনেকে।



